র‌্যাব বলছে, এনামুল হকের বাড়ি গোপালগঞ্জে। কোটালীপাড়ার জনসভায় বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হয়ে তিনি গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এসে আত্মগোপন করেন। পরে গাজীপুরে চলে যান। সেখানে একটি মসজিদে আট বছর ইমামতি করেন। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত এনামুল নিজেকে কারি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেখানে ইমামতি করতেন। ২০১০ সালে গাজীপুরে থেকে তিনি নিজের নাম এনামুল হক থেকে এনামুল করিম এবং স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন।

র‌্যাব আরও জানায়, গাজীপুরে অবস্থানকালে এনামুল একটি হোমিও কলেজে দুই বছর প্রভাষক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করেন। গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী কয়েকটি অভিযান পরিচালনার পর ২০১০ সালে তিনি ঢাকার উত্তরায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকেন। ২০১৫ সালে উত্তরায় হোমিও চিকিৎসার একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ক্যানসার ও এইডসের চিকিৎসারও দাবি করেন তিনি। এভাবেই গত ২২ বছর আত্মগোপনে ছিলেন এনামুল হক।

২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় হামলার চেষ্টা হয়। ওই সময় জনসভার স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের পুঁতে রাখা ২টি বোমা। পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেন সেনাসদস্যরা। এ হামলাচেষ্টার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি এনামুল।

ওই মামলায় ২০০৪ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এনামুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ওই বছরই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালে এনামুলসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সূত্র ধরে এনামুল হকের পরিচয় হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে মুফতি হান্নানের ছোট ভাই আনিসের সঙ্গে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে সোনার বাংলা ক্যামেরা ইন্ডাস্ট্রি নামের একটি কারখানা গড়ে তোলেন এনামুল। মুফতি হান্নান ওই কারখানায় বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক করেন। কারখানাটিতে মূলত টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, মোমবাতি ও সাবান তৈরি করা হতো। সাবান তৈরির কেমিক্যালের নামে বোমা তৈরির নানা সরঞ্জাম কারখানায় নিয়ে আসেন তাঁরা। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ৭০ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের ২টি বোমা তৈরি করা হয়।

র‌্যাব বলেছে, এনামুল হক মুফতি আবদুল হান্নানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের হত্যা করতে জনসভাস্থলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন