খুলনার সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হয়েছে। পুলিশ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় কলেজ শাখার ছয় নেতা-কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে মহানগর ছাত্রলীগ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশীদকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল দাশ, দীপংকর ও দিদারের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ জনকে আসামি করে রাতেই দৌলতপুর থানায় মামলা করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনিরুজ্জামান।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা হলেন কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল এবং ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ, দীপংকর, দিদার, তরিকুল ও ইমরান। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।
এই বিষয়ে ছাত্রলীগের নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমি বিএল কলেজে গিয়েছিলাম। ঘটনার সঙ্গে ওই ছয়জনের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই তাঁদের সাময়িকভাবে দলীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতি আজ শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া কাল রোববারের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকেরা।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষককে মারধরের সময় বিভাগের দরজা-জানালা, চেয়ার-টেবিল, আলমারিও ভাঙচুর করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন