বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ফেসবুকে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে আশুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল সানির পরিচয় থেকে সম্পর্ক হয়। তিন মাস আগে ওই ছাত্রী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে রবিউল নিজের ক্যারিয়ারের অজুহাত ওই ছাত্রীকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করান। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য রবিউলকে চাপ দেন ওই ছাত্রী। গত ২৪ সেপ্টেম্বর আবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জেলা শহরে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন রবিউল। পরে কৌশলে ওই ছাত্রীর মুঠোফোন থেকে নিয়ে ইমো, মেসেঞ্জার ও ফেসবুক থেকে সব ছবি মুছে ফেলেন রবিউল।

ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৩ অক্টোবর আশুগঞ্জ বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ মিয়ার কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে তিন দফায় সালিস হয়। দুটি সালিসে ছফিউল্লাহ মিয়া উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ সালিসে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান, জেলা কাজি সমিতির সভাপতি কাজি মহিউদ্দিন মোল্লা, স্থানীয় জাকির হোসেন ও মোশারফ মুন্সী তিন দিনের সময় নিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের সালিসে রবিউল ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।

সোমবার দুপুরে ওই ছাত্রীর বড় ভাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বোনের মানসিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এই হাসে, এই কাঁদে। ছাত্রলীগ নেতা ছফিউল্লাহ মিয়ার ছত্রচ্ছায়ায় থাকেন রবিউল। ছফিউল্লাহর কারণেই বিষয়টির সমাধান হচ্ছে না। তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য আমাদের বাড়িতে টাকার প্রস্তাবও পাঠিয়েছেন।’

রবিউল সানির মা মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে এটা একটা চক্রান্ত।’

ছফিউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, এমন কিছু করতে পারব না। অভিযোগের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট হয়নি। তাঁরা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘এখানে সমাধান দুইটা। একজন আরেকজনকে মাফ করে দেবে অথবা মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। আর সানি বলতেছে, সে ওই মেয়েকে গ্রহণ করবে না।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে আমি শুনেছি। তবে মেয়ের পরিবার যদি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়, আমরা ছাত্রলীগের নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন