default-image

একটি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী সন্দেহে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সিনেমা রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পিবিআই কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ে রেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামুনসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পিবিআই নিশ্চিত হয়েছে যে ছোট ভাইকে খুন করতে গিয়ে বড় ভাইকে খুনের ঘটনা ঘটেছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, মো. লায়েছ (৩৩) ও মো. উমর সান (৩৫) আপন ভাই। তাঁরা উপজেলার বলিয়ারদী ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দা ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে লায়েছের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সখ্য। লায়েছরা শহরের বসন্তপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মামুন শহরের বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা। ২০১৭ সালের ২৬ জুন ছিল ঈদুল ফিতর। ওই দিন লায়েছরা সবাই গ্রামের বাড়ি চলে যান। রাতে কেবল উমর সান বাড়িতে ফিরে আসেন। ওই রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে উমর সানকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন উমর সানের ছোট ভাই মো. লায়েছ বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই সময় এজাহারে কেবল পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দড়িগাঁও গ্রামের মো. হেলিম নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। হেলিম পেশায় রাজমিস্ত্রি। কিছুদিন পর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর ২২ অক্টোবর পিবিআই দড়িগাঁও গ্রামের নান্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। নান্টু স্থানীয়ভাবে পেশাদার কিলার হিসেবে পরিচিত। নান্টু ওই দিনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দির সূত্র ধরে আটক করা হয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আল আমিনকে। আল আমিন পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। দুজনের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে মূলত হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল্লাহ আল মামুন। ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্র ধরে লায়েছকে খুন করতে চেয়েছিলেন মামুন। সেই কারণে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের ভাড়া করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে ঘরে ঢুকে মশারির নিচে একজনকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে খুন করে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে বুঝতে পারেন টার্গেট ভুল হয়েছে। ছোট ভাইকে খুন করতে গিয়ে বড় ভাইকে খুন করে এসেছেন খুনিরা। স্বীকারোক্তির পর থেকে মামুনকে আটক করার জন্য পিবিআই তৎপর হয়ে ওঠে।

লায়েছ বলেন, ‘মামুনের সঙ্গে আমার লেনদেন ছিল। এ নিয়ে ঝামেলাও চলছিল। তবে মামুন আমাকে খুন করার জন্য খুনি পাঠাতে পারেন, এমনটা ধারণা করতে পারিনি।’

পিবিআই হেফাজতে মামুন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে চলেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, লায়েছের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও লেনদেন ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. মজিবুর বলেন, স্বীকারোক্তিতে স্পষ্টতই উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মামুন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে আদালতের মাধ্যমে মামুনকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0