default-image

রাজধানীর বংশাল এলাকায় শাহাদাত হোসেন নামের ছয় বছরের এক শিশু হত্যা মামলায় এক নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সৈয়দ আফসার ঝুমা এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত নারীর নাম খাদিজা আক্তার (২৭)। তিনি সম্পর্কে ওই শিশুর সৎমা হন। রায় ঘোষণার পর খাদিজাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, শাহাদাতের বাবার নাম কাওছার আহমেদ। তাঁর প্রথম সংসারে দুই ছেলে শাহাদাত হোসেন ও শামীম হাসান। ২০১৬ সালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কাওছারের ছাড়াছাড়ি হয়। শাহাদাত ও শামীম বাবার কাছে থেকে যায়। পরে কাওছার খাদিজাকে বিয়ে করেন। কাওছারের সঙ্গে বিয়ের সময় খাদিজার ছয় বছরের একটি শিশু ছিল।

বিয়ের পর খাদিজা বংশাল এলাকায় কাওছারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। কাওছারের প্রথম সংসারের দুই ছেলে শাহাদাত ও শামীমকে দেখাশোনা করতেন খাদিজা। ২০১৭ সালের ১৭ জুন বিকেলে খাদিজা তাঁর স্বামী কাওছারকে ফোন দিয়ে জানান, শাহাদাত মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে বমি করছে। খবর পেয়ে কাওছার দ্রুত বাসায় আসেন। খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় শাহাদাতকে দেখতে পান তিনি।

পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে শাহাদাতের ছোট ভাই তার বাবাকে জানায়, সৎমা খাদিজা শাহাদাতকে মরিচের গুঁড়া খেতে দেন। শাহাদাত চিৎকার করলে তাকে লাঠি দিয়ে পেটান খাদিজা। তিনি শাহাদাতের মাথা ফাটিয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় কাওছার বাদী হয়ে স্ত্রী খাদিজার বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর বংশাল থানার পুলিশ আসামি খাদিজার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, খাদিজা শিশু শাহাদাতের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। শাহাদাতের শরীরে জখমের দাগ ছিল।

আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি আসামি খাদিজার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলায় নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। আজ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

মন্তব্য পড়ুন 0