বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আনন্দ শিপইয়ার্ডের প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জনতা ব্যাংকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ রোববার সকাল থেকে দুদকের উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
গত ২৯ জানুয়ারি তাঁদের তলব করে ব্যাংকটির নোটিশ পাঠানো হয়।
আজ যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাঁরা হলেন‍ ব্যাংকের স্থানীয় শাখার সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. মুশফিকুর রহমান ও এম এ মতিন, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার ইসরাফিল সিকদার, সাবেক ম্যানেজার মো. মাহফুজুর রহমান, সাবেক এজিএম পূর্ণেন্দু কুমার রায় ও সাবেক এজিএম সাগর আহমেদ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির স্থানীয় শাখার সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার শামসুন্নাহার বেগম ও মো. এনামুল হক, সাবেক এজিএম মো. আফজাল হোসেন, সাবেক ডিজিএম মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক জিএম মো. নুরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ শিপইয়ার্ডকে জনতা ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ২৩৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির এসব কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা বা কোনো না কোনোভাবে দায়দায়িত্ব ছিল। এ কারণে বক্তব্য জানতে তাঁদের তলব করা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, জাহাজ রপ্তানির নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আনন্দ শিপইয়ার্ড দেশের ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জাহাজ নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া এসব ঋণ দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এসব জাল-জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।
এ বিষয়ে অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল বিষয়টির অনুসন্ধান করছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন