রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের লাল্যাঘোনা এলাকায় উগলছড়ি বিলে ২০০ একরের বেশি দুই ফসলি জমিতে বালু জমেছে। এসব জমিতে এখন চলছে তামাক চাষ।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে লাল্যাঘোনা এলাকায় কাচালং নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০০ একর আয়তনের উগলছড়ি বিলে পানি ঢুকে যায়। নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ায় প্রতি বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল বিলের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে বালু জমে বিলের অনেক জমি ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রথমে সেসব জমিতে সবজি চাষ করা হলেও কয়েক বছর ধরে তামাক চাষ করা হচ্ছে। প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ একর জমিতে বালু জমছে। এ কারণে ক্রমে ধানি জমি কমে যাচ্ছে।
তামাকচাষিরা জানান, কাচালং নদী ভাঙনের পর অর্ধশতাধিক চাষি উগলছড়ি বিলের লাল্যাঘোনা এলাকায় বোরো চাষ করেন। কিন্তু ফলন ভালো না হওয়ায় তাঁদের খরচও ওঠেনি। সেই খরচ পুষিয়ে নিতে প্রথমে আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন তাঁরা। কিন্তু হিমাগার না থাকায় ও সঠিকভাবে বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকেরা এখন তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় লোকজন বলেন, উগলছড়ি বিলে এখন তামাকের আগ্রাসন চলছে। ৫০০ একরের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০০ একরের বেশি জমি তামাক চাষের আওতায় চলে গেছে।
উগলছড়ি বিলের তামাকচাষি মো. নাছের আহম্মেদ ও মো. সাত্তার বলেন, তামাক চাষ করলে দ্বিগুণ লাভ হয়। আর সবজি চাষ করলে লোকসান গুনতে হয়। এ কারণে তাঁরা তামাক চাষ করছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইউনূছ বলেন, প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ একর জমিতে বালু জমছে। এসব জমিতে কৃষকদের সবজি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু সঠিকভাবে বাজারজাত করতে না পারায় তাঁরা লাভের মুখ দেখছেন না। এ কারণে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন