গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য সালিসে এক শিক্ষককে জুতাপেটা করে ঘটনার মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত রোববার রাতে উপজেলার ভান্নারা এলাকায় স্থানীয় মাতবররা ওই সালিস বসান। পরে ধর্ষণের শিকার ছাত্রী ও তার পরিবারকে মারধর করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভান্নারা এলাকার এক স্কুলশিক্ষক ওই স্কুলেরই এক ছাত্রীকে কয়েক দিন আগে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিক্ষক ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতবরদের কাছে আশ্রয় নেন। স্থানীয় মাতাবররা শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে গত রোববার রাতে মাতবর আনোয়ার উদ্দিনের বাড়িতে সালিস বসান। সালিসে শিক্ষককে জুতাপেটা ও ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার রায় দেন মাতবর আনোয়ার উদ্দিন, আবুল হাশেম, মোশারফসহ কয়েকজন। পরে শিক্ষককে কয়েকটি জুতার বাড়ি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় ওই শিক্ষক জরিমানার টাকা দিতে পারেননি। গতকাল ভোররাতে ওই শিক্ষক তাঁর লোকজন নিয়ে ছাত্রীর বাবাকে মারধর করে ভয়তীতি দেখিয়ে তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল পাঠিয়েদেন।

এ ব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর ওই শিক্ষককে স্কুলে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রীও স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

মাতবর আনোয়ার ও আবুল হাশেম জানান, ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গত রোববার রাতে গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়। সালিসে শিক্ষককে জুতাপেটা ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার দেড় লাখ টাকার বিষয়ে তাঁরা বলেন, ‘গতকাল ওই দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। শুনেছি মেয়েটির পরিবার নাকি টাকা নিতে আসেনি।’ তবে ওই ছাত্রীর পরিবারকে মারধর করার বিষয়ে তাঁরা জানান, লোক মারফত জানতে পেরেছেন, ওই ছাত্রী ও তার বাবাকে রাতে মারধর করা হয়েছে।

জুতাপেটা ও টাকা জরিমানা করে ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা করা যায় কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার জানান, সালিসে গ্রামের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সবার সিদ্ধান্তেই এটি করা হয়েছে। তবে ওই শিক্ষককে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা উচিত ছিল।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ধর্ষণের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন