রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসছে জুয়া খেলার জমজমাট আসর। হাতের নাগালেই এসব আসর থাকায় জুয়ার নেশায় সেখানে সর্বস্ব খুইয়ে ফেলেছে এলাকার শতাধিক পরিবার। অথচ পুলিশ জুয়া বন্ধের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপই হচ্ছে।
গতকাল বুধবার উপজেলা পরিষদের সামনে কথা হয় ইকরচালী গ্রামের গৃহবধূ রত্না বেগমের (৩০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মোর স্বামীর ৩০ শতক জমি, তিনটি গাভি আছলো। জুয়া খেলা তাক (স্বামী) শেষ করিছে। জুয়া খেলতে না করায় মোকো স্বামী মার-ডাং করে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বুড়িরহাট বাজারের পেছনে, ওকড়াবাড়ি পাইকারি কৃষি বাজার, চান্দের পুকুর হাট, শুকান দিঘির পাড়, জয়বাংলার হাট, বিড়াবাড়ির হাট, বাড়াতির বাজার, আসামগঞ্জ বাজার, হাতীবান্ধা বাজার, অনন্তপুরের বিলে, চিকলীর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে দিনে ও রাতে প্রকাশ্যে কাটটি ও তিন তাসের জুয়া খেলা চলে। মধ্য ও স্বল্প আয়ের পরিবারের লোকজন এসব আসরে আসেন। উপার্জনের যাবতীয় টাকা ছাড়াও অনেকেই সংসারের জিনিসপত্রও বন্ধক রাখেন।
ফকিরপাড়া গ্রামের মনোয়ারা খাতুন (৩৫) বলেন, দুই বছর আগেও তাঁর সংসারে সুখ ছিল, ছিল শান্তি। স্বামী সাইদুল ইসলাম ভ্যান চালাতেন। ধীরে ধীরে জুয়ার নেশায় মত্ত হয়ে সাইদুল সে কাজ ছেড়ে দেন। দিন-রাত পড়ে থাকতে শুরু করেন জুয়ার আসরে। সবার অগোচরে একদিন ভ্যানটিও বিক্রি করে দেন। জুয়ার জন্য ঘরের খাটটিও বিক্রি করেন। এখন তিনি ঠিকমতো বাড়িতেই আসেন না। অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে এখন মনোয়ারাকে সংসার চালাতে হচ্ছে।
ইকরচালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মানিক মিয়া ও হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল জানান, এ পর্যন্ত দুই ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ জুয়ার নেশায় নিঃস্ব হয়েছেন। তাঁদের বাধা দিলেও শোনেন না। উল্টো গালিগালাজ করেন।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘আমি দুই মাস আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জুয়া বন্ধে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য আলী হায়াত খান অভিযোগ করেন, ‘জুয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাসখানেক আগে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি তারা।’
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস সরকার বলেন, শিগগিরই জুয়ারিদের ধরতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন