default-image

রাজধানীর দক্ষিণখানে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে রকিব উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে লিটন (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানা এলাকা থেকে রকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার রকিবকে আদালতে নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের বিমানবন্দর শাখার ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রকিব বলেছেন, জুয়া খেলতে গিয়ে তিনি কোটি টাকার বেশি ঋণ করেন। এ জন্য তিনি প্রচণ্ড আর্থিক ও মানসিক চাপে ভুগেছেন। এই চাপের কারণে তিনি তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেন।

ডিবি উত্তরের উপকমিশনার মশিউর রহমানের ভাষ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকার মো. মনোয়ার হোসেনের বাড়ির চতুর্থ তলার দক্ষিণ পাশের তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রকিবের স্ত্রী মুন্নী (৩৭), ছেলে ফারহান (১২) ও মেয়ে লাইবার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সহযোগিতায় দক্ষিণখান থানা–পুলিশ লাশ তিনটি উদ্ধার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের মতো ডিবি উত্তর বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম এই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত শুরু করে।

মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর থেকে রকিব পলাতক ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। এটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তা রকিবের লেখা। আলামত থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, রকিবই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ডায়েরিতে নোট লিখেছেন। তখন থেকে ডিবির বিমানবন্দর জোনাল টিম, ডিবি (উত্তর) রকিবকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে। তাঁকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানা এলাকা থেকে রকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মশিউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারের পর রকিবকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর পাগলের বেশ ধারণ করে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেছিলেন।

মশিউর রহমানের ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে রকিব বলেন, তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে উত্তরায় চাকরি করছিলেন। সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা বিভিন্ন সময়ে ধার নিয়েছিলেন। অনলাইনে জুয়া খেলে সব টাকা নষ্ট করেন তিনি। পাওনাদারেরা টাকার জন্য তাঁকে চাপ দিচ্ছিলেন। এ কারণে তিনি বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। গত ডিসেম্বরে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনেও ছিলেন। তখন তাঁর পরিবার দক্ষিণখান থানায় জিডি করেন। কিছুদিন পর তিনি বাসায় ফিরে আসেন। আর্থিক ও মানসিক চাপের কারণে একপর্যায়ে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করেন। পরে ঘরে তালা দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। রকিব নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0