নড়াইলে গত রোববার রাতের ঝড়ে কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের চোরখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১১টি ব্যারাকের টিনের চালা উড়ে গেছে। এতে ৫৫টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আর্থিক সহায়তায় খাশিয়াল ইউনিয়নে মধুমতী নদীর চরে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ীর পাংশার নিজাম উদ্দীন নামের একজন ঠিকাদার এ কাজ করেন। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্মিত ২৮টি ব্যারাক ইউএনওর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ব্যারাকের কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, একটি ব্যারাকে পাঁচটি ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের উপযোগী করে ২৮টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। গত রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ২০ মিনিটের এ ঝড়ে ১১টি ব্যারাকের টিনের চালা সম্পূর্ণ উড়ে যায়। বেশ কিছু টিনের চালা পাশের বাসিন্দাদের কুঁড়েঘরের ওপর পড়ায় ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১৩০ নম্বর ব্যারাকের বাসিন্দা কহিনুর বেগম বলেন, ‘মেলা রাত্তিরি হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। খানিক পরে দেহি, আমাগে ঘরের টিনের চালা নাই। বিষ্টিতে ছেলে মেয়েদের বই-খাতাও ভিজে গেছে। তারা স্কুলি যাতি পাত্তিছে না।’

১৩৪ নম্বর ব্যারাকের বাসিন্দা রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ঘরের টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে পাশের মনি মিয়ার ঘরের ওপর ফেলিছে।’ মনি মিয়া জানান, টিনের নিচে চাপা পড়ে তাঁর দুটি হাঁস ও দুটি মুরগি মারা গেছে। আম্বিয়া বেগম (৪৫) জানান, দেয়ালের ইট মাথায় পড়ে তাঁর মাথা ফেটে গেছে। পাশের ঘরের ছোট একটি শিশুও আহত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঠিকাদার ঠিকমতো কাজ করেননি। সিমেন্ট, বালু, ইট ভালো দেননি। কাজের মান ভালো না হওয়ায় সামান্য ঝড়ে ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে ঠিকাদার নিজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, নকশা অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন