ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের সময় উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তাজউদ্দীনকে হাতেনাতে আটকের দাবি করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজাপুর উপজেলার বলাইবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আটক শিবিরনেতার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামায়াত-শিবিরের আরও নয় নেতা-কর্মীকে আটক করে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাসুদুজ্জামানের ভাষ্য, রাত ১০টার দিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেড়ে আসা ১০টি দূরপাল্লার বাসের একটি বহর পুলিশ পাহারায় রাজাপুরের বলাইবাড়ি অতিক্রম করছিল। এ সময় এক ব্যক্তি বহরের পেছনের দিকে থাকা ঈগল পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলার চেষ্টা চালান। বাসের চালক মো. আসাদ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাসটি ওই হামলাকারীর ওপর দিয়ে চালিয়ে দেন। এতে হামলাকারী আহত হন এবং বোমাটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বাসটি রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
বাসের চালক আসাদ বলেন, ‘রাস্তায় একজনের হাতে আগুন জ্বলতে দেখে বুঝতে পারি, পেট্রলবোমা মারা হচ্ছে। তখন আমি চিন্তা করি, মারা তো যাবই, তাহলে ওকে নিয়েই মরি। আমি ওর ওপরই গাড়ি উঠিয়ে দিই। তারপর আর কিছু মনে নাই।’
পরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ হামলাকারীকে আহত অবস্থায় আটক করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পুলিশ জানায়, তাজউদ্দীনের কাছ থেকে পেট্রল বোমাসহ তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার রাতে রাজাপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের আরও নয় নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন