জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে নিষ্পাপ শিশুকে অপহরণ। পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় ৩২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়। তার পরও আক্রোশ মেটেনি অপহরণকারীদের। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে মেরেই ফেলল তারা।
অপহরণকারীদের নিষ্ঠুরতায় চিরতরে চলে যাওয়া শিশুটি হলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জাহিদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সাদমান জিহাদ আপন (৫)। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিরাব এলাকার একটি জমিতে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় মস্কো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
শিশু আপনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তার চাচা (বাবার চাচাতো ভাই) ও চাচিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে আপনের লাশ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সন্দেহভাজনদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
এলাকাবাসী ও পুলিশের ভাষ্যমতে, বিরাব এলাকার জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে চাচাতো ভাই আবুল বাশারের বহু দিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই মধ্যে বাশারের বড় ভাই আবু নাসের জাহিদুলের কাছ থেকে বছর দুই আগে ২৮ লাখ টাকা ধার নেন। পরে কথামতো টাকা ফেরত দেননি। এতে স্থানীয়ভাবে সালিস হয়। নাসের ও তাঁর অপর ভাইয়েরা সালিসের বিচার না মেনে উল্টো জাহিদুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে বাশার, নাসের ও চাচি মাজেদা বেগম শিশু আপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
গত শনিবার বিকেলে আপন বাসা থেকে খেলতে বের হলে তাকে অপহরণ করেন বাশার ও নাসের। রাতে আপন বাসায় না ফিরলে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এতে উদ্বিগ্ন জাহিদুল রূপগঞ্জ থানায় বাশার ও নাসেরের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পর থেকে অপহরণকারীরা মুঠোফোনে জাহিদুলের কাছে ৩২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ছেলেকে ফেরত পেতে অপহরণকীরদের বিকাশ ও নগদে ৩২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন জাহিদুল। তবু ছেলেকে ফেরত দেননি তাঁরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান তিনি।
এ খবরে পুলিশ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মাজেদা বেগম, আপনের অন্য দুই চাচা মাসুম ও মাহফুজ এবং তাঁদের স্ত্রীদের গ্রেপ্তার করে। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহিদুলের বাড়ির পাশে একটি খেত থেকে আপনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
জাহিদুল বলেন, তাঁর ছেলে জুতা পায়ে খেলতে বেরিয়েছিল। অপহরণকারীরা সেই জুতা দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে কয়েক দফায় ৩২ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা পরিশোধের পরও ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল ইসলামের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, অপহরণের পরপরই শিশু আপনকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গাড়িতে নিয়ে ঘুরে বেড়ান অপহরণকারীরা। টাকা পাওয়ার পর লাশ জমিতে ফেলে রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন