মানিকগঞ্জে কাজ শেষে পিকআপে করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকার আশুলিয়ায় ফিরছিলেন দুই নির্মাণশ্রমিক। সংকেত না মানায় ধামরাই থেকে তাঁদের আটক করে ১০ ঘণ্টা থানাহাজতে আটকে রাখে পুলিশ। এরপর তাঁদের টাকা ও গাড়ি রেখে ছেড়ে দেন ধামরাই থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাবুল মিয়া।
এএসআই বাবুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ইসলামপুর এলাকায় পিকআপটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। সংকেত না মানায় ধাওয়া করে গাড়িটিকে আটক করা হয়। এরপর চালক মোস্তাফিজুর রহমান এবং নির্মাণশ্রমিক সাহাজুল ও আইয়ুব আলী নামের আরও দুজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের কাছে ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদারের নির্দেশে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
সাহাজুল বলেন, তাঁর বাড়ি রংপুরের পীরগাছায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকায় থেকে লিটন অ্যান্ড কন্ট্রাক্টর নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সাইট (কর্মক্ষেত্র) থেকে ৫২ হাজার টাকা বিল সংগ্রহ করে একটি নির্মাণযন্ত্র পিকআপে নিয়ে মানিকগঞ্জ শহরে যান। সেখানে কাজ সেরে রাত দুইটার দিকে ওই গাড়িতেই তাঁরা বাসায় ফিরছিলেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ইসলামপুর এলাকায় পুলিশ তাঁদের থামার সংকেত দেয়। কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় চালক ভয়ে গাড়ি না থামিয়েই চলে যান। পরে এএসআই বাবুল তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় ওই কর্মকর্তা তাঁদের কাছে থাকা ৫২ হাজার টাকা নিয়ে নেন। থানায় তাঁকে বেদম প্রহার করা হয় বলেও সাহাজুল অভিযোগ করেন।
সাহাজুল আরও বলেন, তাঁদের আটকের পর স্থানীয় লোকজন গতকাল সকালে থানায় যোগাযোগ করলে ওসি ফিরোজ তালুকদারের নির্দেশে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া ৫২ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। আর গাড়িটি আটকে রেখে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।
এএসআই বাবুল বলেন, গাড়িটি আটকের পর সাহাজুল ও মোস্তাফিজুরের কাছে ৫২ হাজার নয়, ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে সেখান থেকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি টাকা স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছে জমা রাখা হয়েছে। পরে ফেরত দেওয়া হবে।
ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, তিনজনকে আটকের পর তাঁদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের কাছে পাওয়া টাকা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এএসআই বাবুলকে। কিন্তু তিনি ২৫ হাজার টাকা রেখে বাকি টাকা ফেরত দিয়েছেন।
সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল শেখ বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন