জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় চলন্ত ট্রেনে দুই শিশু পাথর নিক্ষেপ করায় তাদের অভিভাবকদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মো. শাহনেওয়াজ ওই দণ্ড দেন।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা দিয়ে ওই দুই শিশুর অভিভাবকেরা মুক্তি পান।
পুলিশ ও রেলস্টেশন মাস্টারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেললাইনে নাশকতা রোধে আনসার সদস্যরা উপজেলার রেললাইন পাহারা দিচ্ছেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটীগামী আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি উপজেলার ৭৩ নম্বর রেলসেতুর কাছে পৌঁছালে আলমগীর হোসেন (১১) ও মোস্তাকিম (১২) ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারে। ট্রেনটি আক্কেলপুর স্টেশনে বিরতি দিলে পাথরের আঘাতে আহত দুই ট্রেনযাত্রী ঘটনাটি কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টারকে জানান। পরে খবর পেয়ে দায়িত্বে থাকা আনসার দলের নেতা মুকুল হোসেন ওই দুই শিশুকে আটক করেন।
এ ব্যাপারে মুকুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আলমগীর ও মোস্তাকিম রেললাইনের পাশের খেতে ধানের বীজ তোলার কাজ করছিল। এ সময় তারা কৌতূহলবশত ওই ট্রেনটিতে পাথর ছুড়ে মারে। এতে ট্রেনের দুই যাত্রী আহত হন। বিষয়টি আক্কেলপুর স্টেশন থেকে আমাদের জানানো হলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই শিশুকে আটক করি। ওই শিশুর বাড়ি উপজেলার গণিপুর গ্রামে। পরে পুলিশ এসে তাদের আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়।’
আক্কেলপুরের স্টেশনমাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, রেলওয়ে আইনে বলা আছে, শিশুরা অপরাধ করলে তার দায় অভিভাবকের। চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোড়ার আপরাধে দুই শিশুর অভিভাবককে রেলওয়ে আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম রেলওয়ে আইনে দুই শিশুর অভিভাবককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন। অভিভাবকেরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা জমা দিয়ে দায় থেকে অব্যাহতি পান। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন