default-image

পিকআপে যাত্রী তুলে ডাকাতির মামলায় আবু মুসা ও বাচ্চু নামের ডাকাত দলের দুই সদস্য আজ শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা স্বীকার করেছেন, পিকআপে যাত্রী তুলে অন্তত ডজনখানেক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁদের দলে আটজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা যাত্রীবেশে থাকতেন। গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কাঁচামাল বা সবজির ব্যবসায়ীদের পিকআপে তুলে সব কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিতেন।

পুলিশ বলছে, গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর কাওলা এলাকায় সবজি বিক্রেতা আপন মিয়ার কাছ থেকে নগদ টাকা কেড়ে নিয়ে ডাকাতেরা তাঁকে চলন্ত পিকআপ থেকে রাস্তায় ছুড়ে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় ডাকাত দলের দ্বিতীয় প্রধান সজলসহ মুসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক নামের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিমানবন্দর থানায় করা হত্যা ও ডাকাতির মামলায় তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আবু মুসা ও বাচ্চু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা ডজনখানেক ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করেছেন। এ চক্রের প্রধান সাত্তার ও তাঁর সহযোগী রফিককে ধরতে অভিযান চলছে।’

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য, ডাকাত চক্রের সদস্য মুসা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তিনি রাজধানীর মেরাদিয়ায় থাকতেন। তিনি বাসচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। করোনার সময় তিনি বেকার হয়ে যান। পরে ডাকাত দলের নেতা সাত্তারের মাধ্যমে দলে ঢোকেন। গত ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া থেকে একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে পিকআপে তোলেন। তাঁর গলায় ছুরি ধরে নগদ টাকা বের করে নেওয়ার পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। সেদিন তিনি দেড় হাজার টাকা পেয়েছিলেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল মাছ, ফলমূল ও সবজির পাইকারি ব্যবসায়ীরা। গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে যাত্রী তুলে তাঁর গলায় তিনি ও রফিক (পলাতক) ছুরি ধরতেন। সজল গাড়িচালকের আসন থেকে উঠে পেছনে এসে যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিতেন। এরপর যাত্রীকে চলন্ত পিকআপ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হতো। দলনেতা সজলসহ পালাক্রমে তিন-চারজন করে থেকে ডাকাতি করতেন।

পিকআপ চালক বাচ্চু বলেন, তিনি ডেমরার কোনাপাড়ায় থাকতেন। তিনি বাসের চালক। গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বেকার হয়ে পড়েন। তিনি দলনেতা সাত্তারের মাধ্যমে ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

এই ডাকাত দলের খপ্পরে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন রাজধানীর দক্ষিণখান কাওলার নামাপাড়ার বাসিন্দা আপন মিয়া। পেশায় সবজি ব্যবসায়ী আপন মিয়া ও তাঁর সঙ্গী নজরুল ইসলাম কারওয়ান বাজারে যাবেন বলে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাতে বিমানবন্দর থানার কাওলার পথচারী সেতুর (ফুটওভার ব্রিজ) পূর্ব পাশে অপেক্ষা করছিলেন। একটা সময় তাঁরা একটি পিকআপ ভ্যানে উঠে বসেন।

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা দিয়ে মুসা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ২৮ ডিসেম্বর রাত ১০টার পর তাঁরা পিকআপ নিয়ে শিকারের খোঁজে আবদুল্লাপুরে যান। কিন্তু যাত্রী না পেয়ে ফিরে আসছিলেন। তখন কাওলা থেকে দুই সবজি বিক্রেতাকে কারওয়ান বাজার কাঁচামালের আড়তে নেওয়ার কথা বলে পিকআপে তোলেন। কিছু দূর যাওয়ার তিনি ও রফিক দুই সবজি বিক্রেতার (আপন মিয়া ও নজরুল) গলায় ছুরি ধরেন। এ সময় চালকের আসনের পাশ থেকে উঠে সজল পেছনে আসেন। তিনি একজনের কাছ থেকে মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে পায়ের কাছে রাখেন। আরেকজনের কাছ থেকে মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সজলের পায়ের কাছে থাকা মানিব্যাগটি নিয়ে প্রথমজন (আপন মিয়া) চলন্ত পিকআপ থেকে রাস্তায় লাফিয়ে পড়েন। তখন তাঁর সঙ্গী তাঁর (নজরুল) মানিব্যাগটি ডাকাতদের কাছে দিয়ে তাঁকে নামিয়ে দেওয়ার আকুতি জানালে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। সেদিন ডাকাতির পর তাঁরা নারায়ণগঞ্জের চনপাড়ায় যান। এ সময় ডাকাতির দেড় হাজার টাকা পান তিনি।

ডিবির কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর রাতেও ডাকাতি করেছিল দলটি। খিলক্ষেত থেকে শওকত ওসমান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চনে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের পিকআপে তোলেন। বসুন্ধরার কাছাকাছি পৌঁছে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরি মেরে টাকা লুট করে নেন। ওই ব্যাংক কর্মকর্তা নিজের প্রাণ বাঁচাতে লাফিয়ে পড়েন। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শওকত ওসমান ডিবি কার্যালয়ে এসে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁর সারা শরীরে ছুরিকাঘাতের ক্ষত দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন