default-image

রাজধানীতে কয়েকটি ছিনতাই ও ডাকাত গ্রুপের ‘আশ্রয়দাতা’ কোহিনুর বেগম ওরফে মালাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুগদা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এই নারীসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মালার স্বামী ইয়াসিনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন রাসেল মাহমুদ, মো. মাসুদ মিয়া, শামীম, আমিনুল ইসলাম ওরফে হৃদয়, পারভেজ, শহিদুল, বাবু ওরফে ব্লেড বাবু ও মো. জয় মিয়া। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি চাপাতি ও দুটি ছোরা উদ্ধার করা হয়।

সহযোগিতার বিনিময়ে লুটের অংশ পেতেন
আজ বুধবার দুপুরে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম। তিনি বলেন, মালার নামে একাধিক ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। এমনকি শাহবাগে ডাকাতির পর হত্যার ঘটনাতেও মালার নাম উঠে আসে।

মালা ও তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত দলের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিলেন। ডাকাত বা ছিনতাইকারী দলের কোনো সদস্য কখনো গ্রেপ্তার হলে বা কোনো বিপদে পড়লে তাঁদের জামিন করার ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেন এই দম্পতি। এর বিনিময়ে তাঁরা লুট করা মালামালের একটি বড় অংশ ভাগ নেন।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর মুগদা এলাকায় তিনি একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। মালার বাসায় বিভিন্ন ডাকাত ও ছিনতাইকারীরা আশ্রয় নেয়। সেখানেই ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মালামাল ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়। এমনকি কোনো ডাকাত-ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হলে এই মালাই আদালত থেকে ছাড়িয়ে আনতে টাকাপয়সা খরচ করে তদবির করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রভাবশালীরা ডাকাতদের পৃষ্ঠপোষকতা করত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘ডাকাতদের প্রভাবশালী কেউ পৃষ্ঠপোষকতা করত না। তবে কয়েকজনকে পেয়েছি, যারা তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করত। তাদের আমরা আইনের আওতায় আনব।’

default-image

ছিনতাই সফল হলে বসত ইয়াবার আসর
ডিবির কর্মকর্তারা বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে রাজধানীর ছিনতাইকারী বড় বড় চক্রকে আশ্রয়–প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন মালা-ইয়াসিন দম্পতি। সম্প্রতি শাহবাগে কেব্‌ল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলামকে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। তারা এই দম্পতির কাছে সাহায্য চেয়েছিল। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু করেছিল মালা-ইয়াসিন। এই দম্পতি ছিনতাইকারীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ ছিনতাইয়ের পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে।

আবার যখন কোনো ছিনতাইকারী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়, তখন তাঁরা আইনজীবী ঠিক করে আইনি সহযোগিতাও দিয়ে থাকেন। মালার স্বামীকে খোঁজা হচ্ছে।

ডিবি পুলিশ বলেছে, মালার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। ছোটবেলায় কারওয়ান বাজারে সবজি কুড়াতেন। পরে একপর্যায়ে নাট্যমঞ্চে চলে যান। সেখানেই তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু সেই সংসার বেশি দিন টেকেনি। প্রথম স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়। এখন তৃতীয় স্বামীর সংসার করছেন মালা। এই স্বামীর নাম ইয়াসিন। ছিনতাইকারীরা সফলভাবে ছিনতাই করতে পারলে তাদের বাসায় ইয়াবার আসরও বসাতেন।

অজ্ঞান পার্টির ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
ডিবির রমনা বিভাগের ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার অজ্ঞান পার্টির ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে অজ্ঞান করার পাঁচটি স্প্রে, চারটি গুল, চারটি জামবাক, চারটি পাগলা মালম ও তিন প্যাকেট মরিচের গুঁড়া জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুক্তা, মো. কালু, মো. ইলিয়াস, আনোয়ার হোসেন, সুমন হোসেন, ইকবাল হোসেন, মো. মিটন, রবিউল আউয়াল ও হেলাল।

মুঠোফোন চোর গ্রেপ্তার
গতকাল ডিবির মতিঝিল বিভাগ নগরীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মুঠোফোন চোরাকারাবারি দলের সক্রিয় ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩০টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রবীন ওরফে নবী, মো. সাঈদ, রুনা ওরফে রোজিনা, মনোয়ার হোসেন, রুবেল মিয়া ওরফে হাসান ও আল আলামীন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন