ভৌতিক বিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবির) আওতাভুক্ত সেচপাম্প মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ইউনিটের চেয়ে অতিরিক্ত ইউনিটের বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিল সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না।
গত রোববার সরেজমিনে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খাটুরিয়া, জাল্লির মোড়, বসুনিয়া, ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী সেচপাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খাটুরিয়া গ্রামের সেচপাম্প মালিক আকবর আলী অভিযোগ করেন, ‘আমি দেড় বিঘা জমিতে বছরে তিন মাস সেচ দিয়ে আবাদ করি। বাকি নয় মাস পাম্প বন্ধ থাকে। বর্তমানে আমার মিটারে রিডিং আছে ৪৫১৩ ইউনিট। এর মধ্যে ৩১০০ ইউনিটের বিল আগেই পরিশোধ করেছি। বাকি ১৪১৩ ইউনিটের বিল বাবদ চার হাজার টাকা গত ১১ সেপ্টেম্বর পরিশোধের পর আমার পাম্প বন্ধ ছিল। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি আবারও আমাকে ২১ হাজার ৮৩৪ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ কার্যালয় থেকে মিটার খারাপের কথা বলছে। তাই ১০-১৫ দিন আগে একই নামে নতুন মিটার নিয়ে সেচ শুরু করেছি। কিন্তু আমাকে যে অতিরিক্ত বিলটা দেওয়া হয়েছিল, তা রয়েই গেছে। বিদ্যুৎ অফিসের লোক বলছে, রংপুর থেকে কম্পিউটারে নাকি বিল হয়ে এসেছে। এটা পরিশোধ করতে হবে। না হলে পরে মামলা হবে।’
বসুনিয়ার হাট এলাকার সেচপাম্প মালিক শরিফুল ইসলামের অভিযোগ, ‘আমার বিলে রিডিং দেখিয়েছে ৩৩ হাজার ২০০, কিন্তু মিটারে আছে ২৯ হাজার ৩০ ইউনিট। ৪ হাজার ১৭০ ইউনিটের অতিরিক্ত বিল দিয়েছে। মিটার রিডার অফিসে বসে বিল করেন। আমাদের অফিসে গিয়েই বিলের কাগজ আনতে হয়। এখন অতিরিক্ত বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, “আগের কর্মকর্তারা এটা করেছেন। আমাদের কিছু করার নেই।” এখন তাহলে আমরা কার কাছে যাব?’
একই ধরনের অভিযোগ করেন সোনারায় ইউনিয়নের সেচপাম্প মালিক গোলাম আনছারি, মিজানুর রহমান, আ. রহিম, নূর হোসেন, সিদ্দিকুর রহমান, হবিবর রহমান, জমসেদ আলীসহ অনেকে। তাঁরা এ ভৌতিক বিলের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে পিডিবির ডোমার কেন্দ্রের উপসহকারী প্রকৌশলী নয়ন মিয়া বলেন, ‘আগে এ সমস্যা ছিল। এখন আমরা মিটার দেখেই বিল করছি।’ ঢালাওভাবে মিটার খারাপ দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কেউ অতিরিক্ত বিলের কাগজ দেখাতে পারলে আমরা তা সংশোধন করে পরবর্তী বিলে সমন্বয় করব।’ ইতিমধ্যে অনেকগুলো সমন্বয় করাও হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নয়ন মিয়া জানান, ডোমার বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আওতায় নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা ও পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশের সেচপাম্প গ্রাহকসহ মোট ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে।
একই কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, ‘আমি গত বছরের জুনে এখানে যোগ দিয়েছি। এরপর যেসব অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলোর মধ্যে এক থেকে দেড় শ বিলের সমাধান করেছি। আর যেগুলো তিন মাসের বেশি পুরোনো কিংবা যেসব সংযোগের মিটার নষ্ট, সেগুলো সমাধান সম্ভব নয়। আমি সব কৃষককে ডিজিটাল মিটার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন