ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের দুই কর্মীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের স্থায়ীভাবেও বহিষ্কার করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজ সকাল আটটার দিকে হাতবোমা ফাটিয়ে পালানোর সময় পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র মো. শাহাদাত নাসির শুভ ও আরবি বিভাগের হাসানুর রহমানকে পথচারীরা ধরে র‍্যাবের হাতে তুলে দেয়। তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য বিষয়টি শৃঙ্খলা পরিষদের পরবর্তী সভায় উপস্থাপিত হবে।’

র‍্যাব জানিয়েছে, ককটেল বিস্ফোরণের পরে পথচারীরা ওই দুজনকে ধরে গণপিটুনি দেন। তাঁদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক নেতা এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, সকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলের পরই র‍্যাবের সদস্যরা শাহাদাত নাসির শুভ ও হাসানুর রহমানকে ধরে ফেলেন। র‍্যাব সদস্যরাই তাঁদের মারধর করে আহত করেছেন। মিছিল থেকে কোনো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি বলেও দাবি তাঁর।

এ দিকে এ ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল আটটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্রদলের ৮-১০ জন নেতা-কর্মী একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি জগন্নাথ হলের সামনের চৌরাস্তায় গিয়ে নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় সেখানে র‍্যাব কিংবা পুলিশের কোনো গাড়ি ছিল না। এর অন্তত আধা ঘণ্টা পর চৌরাস্তার মোড়ে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরিত হয়। ককটেলের ধোঁয়া থাকতে থাকতেই দেখা যায় কয়েকজন র‍্যাব সদস্য দুজনকে ধরে মারতে মারতে র‍্যাব-১০ লেখা একটি গাড়িতে তুলছেন।
র‍্যাব-১০-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ওই দুইজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দৌড় দেন। সামনেই র‍্যাবের একটি টহল গাড়ি দেখতে পেয়ে তাঁরা উল্টোদিকে দৌড়াতে শুরু করেন। তখন স্থানীয় জনতা তাঁদের ধরে পিটুনি দেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন