default-image

চাচাতো দুই ভাই। একজনের বয়স ১৫, অন্যজনের ১৬। পারিবারিক বিরোধে–সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশের হাতে আটক ও জামিনে মুক্তি পায়। তবে জামিন পেলেও মামলার কারণে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ হতে বসে তাদের পড়াশোনাও। এসব দিক বিবেচনায় শিশু দুটির স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে একপর্যায়ে প্রবেশনে মুক্তি মেলে আদালত থেকে।

শিশু দুটির বাড়ি পাবনায়। গত এক বছরে জেলায় তাদের মতো আরও ১৪৩ শিশুর স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের কেউ অপরাধে জড়ানো বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

এই শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজটি করেন জেলার শিশু আদালত ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ। একই সঙ্গে আদালত ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই শিশুদের সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সহযোগিতা দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শিশু আদালত ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া এই শিশুদের মধ্যে ৩১ ছেলেশিশুকে প্রবেশনে, লঘু অপরাধে জড়িত ৬৫ জনকে জামিনে, ৩২ কন্যাশিশুকে রাজশাহী সেফ হোম থেকে পরিবারে এবং ১৭ জন সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুকে পরিবার বা সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশুদের বিষয়ে আদালত ও অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই শিশুদের অনেকেই একসময় বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান ও অফিসে কাজ করত। তাদের অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে মাদক ব্যবসায়ীরাক মাদক সরবরাহ, চুরি ও ছিনতাইয়ের কাজ করিয়ে নিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা পড়ার পর শিশুরা তাদের দোষ স্বীকার করে। ফলে শিশু আদালত থেকে তাদের জামিনে ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রবেশনে মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়।

পাবনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ বলেন, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত শিশুদের সুরক্ষায় তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। শিশু আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম

প্রতিটি শিশুর জামিন শুনানিতে আদালতে শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও সুবিচার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সার্বিকভাবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনও শিশুদের সুরক্ষায় সহযোগিতা দিচ্ছে।

জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন কারণে শিশুরা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কাজে জড়িয়ে পড়ে। এসব শিশুসহ সুবিধাবঞ্চিত অনেক শিশুকে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতেও জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন