default-image

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চালু করা বার্ন ইউনিটে অল্প পোড়া রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। দক্ষ জনবল ও অবকাঠামো তৈরি না হওয়ায় এ দুই ইউনিটে মারাত্মক পোড়া রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চালু হওয়া ১০ শয্যার বার্ন ইউনিটে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক নেই। এ তিন বার্ন ইউনিটে সরেজমিনে ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে।
সরকারি নির্দেশে ৩ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা হাসপাতাল ও মুগদা হাসপাতাল বার্ন ইউনিট চালু করে। বিএসএমএমইউতে ১০ শয্যার বার্ন ইউনিট চালু হয় গত রোববার। চলমান অবরোধ-হরতালে পেট্রলবোমা ও আগুনে দগ্ধ রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। এই চাপ কমানোর লক্ষ্যে এসব হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ৫০০ শয্যার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ২০টি করে শয্যা রয়েছে। কিন্তু মারাত্মক দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, গত অক্টোবর থেকে বাজেট বরাদ্দ বন্ধ থাকায় হাসপাতাল দুটি চরম সংকটে পড়েছে। এতে হাসপাতাল দুটি রোগীদের ১০ শতাংশ চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না। সরকার বার্ন ইউনিট চালুর নির্দেশ দিলেও এখনো ইউনিট চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়নি, এ জন্য বরাদ্দও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক শামিউল ইসলাম গতকাল সোমবার বলেন, হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনমতো জিনিসপত্র কিনে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দরপত্র আহ্বান করে জিনিস সংগ্রহ করবে। পরে সরকার টাকা দেবে।
নতুন ইউনিট দুটির চিত্র: কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইদুর রহমান ৩ ফেব্রুয়ারি বার্ন ইউনিট চালুর বিষয়ে নোটিশ জারি করেন। ওই নোটিশে বলা হয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘মাইনর টু মডারেট বার্ন উইদাউট ইনহেলেশন বার্ন’ ও ‘হিলিং স্টেজড সিভিয়ার বার্ন’-এর ফলোআপ (অল্প থেকে মাঝারি ধরনের পোড়া রোগী, যাদের শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং গুরুতর আহত যেসব রোগী সেরে উঠছে) চিকিৎসা দেওয়া হবে। গতকাল এ ইউনিটে একজন রোগী ছিলেন। ৩০ বছর বয়সী এই যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলেন। তাঁর ১০ শতাংশ পুড়েছে, তবে গভীর ক্ষত হয়নি।
মুগদা হাসপাতালেও মারাত্মক দগ্ধ রোগীদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। যাদের শরীর ১০ শতাংশের কম পুড়েছে এবং মুখ, গলা, বুক ও তলপেট পোড়েনি, শুধু তারাই এখানে চিকিৎসা পাবে। গতকাল এ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কেউ ভর্তি ছিল না। তবে এ পর্যন্ত এখানে হরতাল-অবরোধে সামান্য দগ্ধ হয়েছে এমন ১৪ জন রোগী সেবা পেয়েছে।
মারাত্মক দগ্ধ রোগী না রাখার কারণ হিসেবে হাসপাতাল দুটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), সার্বক্ষণিক সেবাকেন্দ্র (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট-এইচডিইউ), রক্ত সঞ্চালন কেন্দ্র নেই। এ দুটি হাসপাতালে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে। তাঁরা জনবল তৈরির কাজ করবেন এবং রোগীদের সেবা দেবেন।
কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। তবু আমরা আশাবাদী। যা আছে তাই নিয়ে ইউনিট চালানোর চেষ্টা করছি।’
মুগদা হাসপাতালের পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রস্তুত, তবে ১০ শতাংশের কম দগ্ধ রোগীদের জন্য।’
বিএসএমএমইউর চিত্র: বিএসএমএমইউর বার্ন ইউনিটে গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে গিয়ে দুজন শিশু রোগীকে ভর্তি দেখা যায়। এদের একজন সাজু (৫)। তার মা মোসাম্মৎ সাথী খাতুন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন গিয়ে তাঁদের ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট থেকে এখানে এনেছেন। যাঁরা এনেছেন তাঁরা বলেছেন, ভালো না লাগলে ঢাকা মেডিকেলে ফিরে যেতে পারবেন। তিনি সন্তান নিয়ে চলে যেতে চান। কিন্তু চিকিৎসকেরা ছাড়ছেন না।
ওই সময় রোগীর সামনে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক এক প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনি দাঁতের চিকিৎসক। ওই পালায় তাঁর সঙ্গে আরও একজন দাঁতের চিকিৎসক আছেন। তাঁরা দুজনেই স্নাতকোত্তর লেখাপড়া করছেন বিএসএমএমইউতে। তবে বিএসএমএমইউর দাবি, এ ইউনিটে রোগীরা বিনা মূল্যে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞসেবা পাবেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন