ত্বকী হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি

বিজ্ঞাপন
default-image

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যায় চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার শুরুর দাবিতে মানববন্ধন ও আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তন প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করে তারা।

সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক, নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জেলার সভাপতি জাহিদুল হক, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা কমিটির সমন্বয়ক নিখিল দাস, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন ও সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা। উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, প্রদীপ ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা, সমগীতের সভাপতি অমল আকাশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা।

রফিউর রাব্বি বলেন, দলীয় সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য সরকার ত্বকী হত্যায় অঘোষিত ইন্ডেমনিটি জারি করে রেখেছে। দেশে সুশাসন, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র সবকিছুই আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার সবকিছু দলীয়করণ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনকে ধ্বংস করেছে। বিচার-প্রক্রিয়া ও আইনের স্বাভাবিক গতিকে ধ্বংস করেছে। সরকার কেবল তার নিজের প্রয়োজনে আইনকে ব্যবহার করে। আর সে জন্যই সাড়ে সাত বছরেও ত্বকী হত্যার বিচার হয় না। ঘাতকেরা চিহ্নিত হওয়ার পরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দেয়।

বক্তারা অবিলম্বে ত্বকীর খুনিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাঁদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু অদ্যাবধি অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়নি। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন