ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যানচালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ যাত্রীদের চেয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন তাঁরা।
চলমান অবরোধ-হরতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নিয়মিত না চলায় সেই দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার। এ পথে রিকশাচালকেরা ভাড়া নেন ৩০-৪০ টাকা, ইজিবাইকচালকেরা ১৫ টাকা, ভ্যানচালকেরা ১০ টাকা। অথচ অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে তাঁরা একই হারে ভাড়া নেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরত্বের পথের জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে দুটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২৮ জন। বাকিরা থাকেন ময়মনসিংহ শহর ও ত্রিশালের বিভিন্ন মেসে। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস তিনটি। আর ভাড়ায় চলে পাঁচটি।
আনাবাসিক কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সময়সূচির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে অনেক সময়ই তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে পারেন না। ফলে গণপরিবহনই হয় তাঁদের ভরসা। এই সুযোগে রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যানচালকেরা বেশি ভাড়া আদায় করছেন।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌর শহরে গণপরিবহনের জন্য পৌরসভা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ত্রিশালে এ নিয়ম নেই।
১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা মোড় থেকে চারজন শিক্ষার্থী ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে আসার জন্য একটি ইজিবাইকে চড়েন। তাঁদের একজন ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার দূরে নেমে পড়লেও তাঁর কাছ থেকে জোর করে ১০ টাকা ভাড়া আদায় করেন চালক। অথচ এখানে স্বাভাবিক ভাড়া পাঁচ টাকা।
শিক্ষার্থীরা জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে এসেছেন। আর একে সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন পরিবহনশ্রমিকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সজীব আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় তাঁদের মাসিক খরচে টান পড়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে এরা (রিকশাচালক) শিক্ষার্থীদের চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালকদের রয়েছে অঘোষিত একটি চক্র। ওই চক্রের কড়াকড়ি মানতেই কোনো চালক ভাড়া কম নেওয়ার সাহস পান না। একজন ইজিবাইকচালক বলেন, কেউ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কম ভাড়া নিলে তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন অন্য চালকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ইজিবাইক বা রিকশাচালকদের বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি আমরা জানি। তবে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিষয় না হওয়ায় আমাদের কিছুই করার নেই।’
জানতে চাইলে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এ বি এম আনিসুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে এর আগে কেউ অভিযোগ করেনি। এখন জানলাম। আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখব।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন