default-image

১০ মাস আগে বিয়ে হয়েছে সাজেদুল-জোছনার। তবে নিজেদের মতো সংসার শুরু করতে পারছিলেন না। সাজেদুল ঢাকায় পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করেন। এবার ঢাকায় এক কক্ষের একটি বাসা ভাড়া করে গ্রামে ফিরেছিলেন স্ত্রীকে নিয়ে যেতে। একসঙ্গে সংসার সাজাবেন। দুজনে ঢাকায় রওনাও হয়েছিলেন। কিন্তু পথে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে তাঁরা দুজনই এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গাইবান্ধার তুলসীঘাটে বাসে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাজেদুল ইসলাম ওরফে সাজু মিয়ার (৩০) মুখ, মাথা, দুই হাতসহ শরীরের ২৮ শতাংশ। আর স্ত্রী জোছনার (২২) মুখ, ডান হাতসহ শরীরের ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। ওই পেট্রলবোমায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
জোছনা জানান, গত শুক্রবার ভোরে গ্রামের বাড়িতে আসেন সাজেদুল। ওই দিনই রাতে ফিরে যেতে হবে ঢাকায়। কেননা, পরদিন শনিবার চাকরিতে যোগ দিতে হবে। এসব চিন্তা করে শুক্রবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে রাতের গাড়িতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তাঁরা দুজনই।
বার্ন ইউনিটের নারী শয্যা থেকে জোছনাকে দগ্ধ অবস্থায় স্বামীর খোঁজখবর নিতেও দেখা যায়। তুলনামূলকভাবে জোছনা কিছুটা ভালো। হাঁটাচলা করতে পারেন।
চিকিৎসাধীন দগ্ধ স্বামীর শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দগ্ধ স্ত্রী জোছনা বেগম বলেন, ‘স্বামীর সাথে আমিও ঢাকাত গার্মেন্টেসোত চাকরি করব। দুইজনের টাকায় সংসার চলবে। ঢাকা থাকিয়া ও (স্বামী) আমাক নিয়া যাওয়ার আগোত সেখানে দুই হাজার টাকায় হাঁড়ি-পাতিল-থালাসহ রান্নাবান্নার কিছু কিছু জিনিস কিনছে। তিন হাজার টাকায় একটি রুম ভাড়া নিছে, যেখানে আমাদের দুইজনের ওঠার কথা। নতুন সংসার শুরু করমো, কিন্তু কী যে হয়া গেল।’ এ কথাগুলো বলার পর তাঁর গলার স্বর নেমে আসে। জড়িয়ে যায় কথা।
চিকিৎসাধীন সাজেদুল ইসলামকে শয্যায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। জানতে চাইলে বলেন, ‘আমাদের দুজনের জন্য দোয়া চাই সবার কাছে। আমরা যেন সুস্থ হই।’
সাজেদুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকায়। বাবা আবদুল মতিনের পেশা কৃষিকাজ। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। আর জোছনার বাড়ি পাশের কঞ্চিপাড়া গ্রামে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান মারুফুল ইসলাম বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন