রাজধানীর ডেমরা এলাকার একটি বাসা থেকে গতকাল মঙ্গলবার এক দম্পতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই দম্পতির নাম মো. আসলাম (৩২) ও প্রিয়া আক্তার (১৮)। বেলা তিনটার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই দম্পতি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু প্রিয়ার পরিবারের অভিযোগ, প্রিয়াকে হত্যার পর ঝুলিয়ে আসলাম নিজে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
প্রিয়ার শ্বশুরবাড়ি ডেমরার বামৈলের নতুন ডগাইর এলাকায়। এর কিছু দূরে বামৈলের পূর্ব পাড়ায় তাঁর বাবার বাড়ি। এখান থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। পাঁচ মাস আগে আসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দুই বোনের মধ্যে প্রিয়া ছোট। স্বামী আসলাম রাজধানীর ধোলাইখালে মোটর যন্ত্রাংশের ব্যবসা করতেন।
প্রিয়ার বাবা নাহিদ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিয়ের পর থেকে সাংসারিক বিভিন্ন কারণে প্রিয়াকে মারধর করতেন আসলাম। এ নিয়ে একবার সালিস বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু মারধর থামেনি। চার-পাঁচ দিন আগে আসলাম প্রিয়াকে নিয়ে তাঁর বাসায় বেড়াতে আসেন। সে সময় তিনি প্রিয়াকে তাঁর কাছে রেখে দেন।
নাহিদ বলেন, এর পর থেকে প্রতিদিন প্রিয়াকে নেওয়ার জন্য আসলাম তাঁর বাসায় যেতেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকেও আসলাম গিয়ে প্রিয়াকে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। সে সময় তিনি কাজে বাইরে ছিলেন। বাসায় ছিলেন প্রিয়ার মা নাসিমা বেগম। জোরাজুরির একপর্যায়ে আসলাম মারধর করে টেনেহিঁচড়ে বাসার একটি কক্ষে প্রিয়াকে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও দরজা না খোলায় প্রিয়ার মায়ের সন্দেহ হয়। তিনি তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি বাসায় গিয়ে অনেকক্ষণ দরজা ধাক্কানোর পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কক্ষের জানালা ভেঙে দেখেন, দুজনই ফ্যান ঝোলানোর রডে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছেন।
নাহিদ অভিযোগ করেন, ওই কক্ষের সিলিং ফ্যান খোলা অবস্থায় ছিল। তাঁর ধারণা, গলায় ফাঁস দিয়ে প্রিয়াকে হত্যার পর ফ্যান খুলে নিজেও ঝুলে আত্মহত্যা করেন আসলাম। তবে এ ঘটনায় তিনি কোনো মামলা করতে চাচ্ছেন না। ডেমরা থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
আরও তিনটি লাশ উদ্ধার : গতকাল দুপুরে পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে সেতারা খাতুন (১৮) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে বিকেলে রাজধানীর মিরপুর মণিপুর এলাকার এক বাসা থেকে সুলতান মিয়া (২৩) নামের এক তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, দুজনই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
গত সোমবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার জয়নাল মার্কেটসংলগ্ন খানপাড়া এলাকার এক বাসা থেকে মিজানুর রহমান (৩৬) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণখান থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন মিজানুর। তিনি মুদি দোকানদার ছিলেন। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন