দরপত্রে স্বাক্ষর হয়নি, তাই প্রথমে এক কর্মকর্তাকে ভয় দেখান তিনি। পরে রেল ভবনের সামনে ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এবং রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক প্রশাসক জিয়াউল হক। এ ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

জিয়াউল হক রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের আগের কমিটিতে শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

রেল ভবনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, আজ বিকেল চারটার দিকে জিয়াউল হক তাঁর লোকজন নিয়ে রেলভবনে যান। এ সময় তিনি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা গোলাম আম্বিয়ার কাছে একটি দরপত্রে স্বাক্ষর হয়েছে কি না, জানতে চান। জবাবে ওই কর্মকর্তা ফাইলে স্বাক্ষর হয়নি বলে জানান। এতে জিয়াউল হক তাঁর ওপর চড়াও হন এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে বাইরে এসে তিনি তিনটি গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় পুরো রেল ভবনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক কর্মচারী জানান।
কিন্তু গোলাম আম্বিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

খবর পেয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানার পুলিশ জিয়াউলকে নগরের অলকার মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দরপত্র নিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগে জিয়াউল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন।

বিকেলে রেল ভবনে গিয়ে দেখা যায়, রেলওয়ে সরঞ্জাম শাখার দেয়ালে গুলির চিহ্ন আছে। কিন্তু ওই শাখার কোনো কর্মকর্তাই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন