রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে এক কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র জমা দিতে গতকাল বাধা দিয়েছেন স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের বাধার কারণে দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ দরপত্র জমা দিতে পারেনি।
দেশের বিভিন্ন এফএম বেতার ও কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান তৈরি ও প্রচার করার জন্য এ দরপত্র চাওয়া হয়েছিল। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
দরপত্র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতা তাঁর পছন্দের লোককে কাজ পাইয়ে দিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে বলেন। কিন্তু অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাঁদের অপারগতা প্রকাশ করলে গতকাল সকাল থেকে তাঁর লোকজন ভবনের নিচে পাহারা বসান। প্রথম দিকে তাঁরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এ সময় অন্য একজন দরপত্র জমা দিতে এলে তাঁকে ধাওয়া করেন নিচে থাকা যুবকেরা। ওই কর্মকর্তা জানান, কারওয়ান বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা লোকমান হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে সমঝোতার চেষ্টা করেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে অধিদপ্তরের নিচে পাওয়া যায় লোকমান হোসেনকে। তাঁর সঙ্গে জনা দশেক লোকও ছিল। জানতে চাইলে লোকমান হোসেন নিজেকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি ভাই স্থানীয় রাজনীতি করি। তাই সমঝোতার জন্য পুলিশ অফিসার আমাকে ডেকে এনেছেন।’ কাদের সঙ্গে সমঝোতা করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তো জানি না’।
প্রথম আলোর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার পরপরই তিনি ১০-১৫ জন সঙ্গী নিয়ে অধিদপ্তরের ভবনের দোতলায় মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদারের কক্ষে যান। কিন্তু এ সময় মহাপরিচালক দপ্তরের বাইরে থাকায় তিনি সেখান থেকে নেমে আসেন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সমঝোতার জন্য পুলিশ লোকমান হোসেনকে ডাকেনি। বরং ভবনের প্রবেশমুখে দরপত্র নিয়ে সমঝোতার চেষ্টার সময় ধাওয়া দেওয়া হয়েছে।
দরপত্র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত পপুলেশন কমিউনিকেশন কর্মকর্তা প্রবীর কুমার সেন বলেন, ‘সকালে চিৎকার শুনেছি। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য পুলিশ রাখা হয়েছে।’ এরপর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। এর একটি হলো মার্ক মিডিয়া আর অনটির নাম র্যাবিট কমিউনিকেশন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি শুনেছেন দরপত্র বাতিল করে আবার দর চাওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন