যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে যশোর শহর থেকে মোটরসাইকেলে ইউপি কার্যালয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে গুলি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান মোশারফ শহরের কাঁঠালতলা এলাকার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ইছালী ইউপি কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। পথে যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে সেখানে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চেয়ারম্যানের বাড়ি ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। শহরের কাঁঠালতলা এলাকার বাড়িতে তিনি থাকতেন। তাঁর একমাত্র ছেলে হোসেন ফেরদৌস ঢাকায় এমবিএ পড়ছেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ গণি মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচবাড়িয়া এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় কোনো পূর্বশত্রুতা বা রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্বের জেরে তিনি খুন হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপপরিদর্শক (এসআই) বুলবুল আহমেদ জানান, চেয়ারম্যান মোশারফের কোমরে একটা গুলি করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মোশারফের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম হাসপাতালের মর্গের সামনে আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘জানেন, কত প্রশ্নের উত্তর আমি দিতি পারি। কিন্তু এখন কোনো প্রশ্নের উত্তর আমার মুখস্থ নেই। আর বললি কি আপনারা ওকে আনে দিতি পারবেন? রাজনীতি করলি এসব হয়...’ বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফেরদৌসী বেগম জানান, ‘গোসল করে খেয়ে সকাল ১০টার দিকে পরিষদে যাওয়ার উদ্দেশে তিনি শহরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এর আগে তাঁর মোবাইলে কয়েকটি ফোন আসে। পরে ১২টার দিকে বাসায় ফোন এল আমার সে (স্বামী) আর নেই।’
ময়নাতদন্ত শেষে বেলা আড়াইটার দিকে চেয়ারম্যান মোশারফের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে লাশ নেওয়া হয় শহরের কাঁঠালতলা এলাকার চেয়ারম্যানের বাড়িতে। বিকেল পাঁচটার দিকে মরদেহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার পর মরদেহ ইছালী ইউপি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ওই কার্যালয় থেকে গ্রামের বাড়ি রাজাপুর গ্রামে নিয়ে রাতেই মরদেহ দাফন করার কথা।
বিক্ষোভ মিছিল: এর আগে চেয়ারম্যান মোশারফের খুনিদের আটক ও শাস্তির দাবিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। হাসপাতাল চত্বর থেকে বের হয়ে মিছিলটি শহর ঘুরে আবার হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন