বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুক্রবার ভোরে পাঠানবাড়ী সড়কের বহুতল তাসফিয়া ভবনের নিচতলার গ্যারেজের কক্ষে তত্ত্বাবধায়ক মোজাম্মেল হক পানি দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করছিলেন। তা দেখতে পান একজন ভাড়াটিয়া। ওই ভাড়াটিয়া তাঁর ছেলেকে ডেকে বিষয়টি দেখান। তাঁরা রক্ত কোথা থেকে এল, জানতে চাইলে মোজাম্মেল সদুত্তর দিতে পারছিলেন না। এ সময় পাশের সেপটিক ট্যাংক থেকে মানুষের গোঙানি শুনতে পান তাঁরা। তাঁরা ট্যাংকের ঢাকনা তুলে মুমূর্ষু অবস্থায় শাহরিয়ারকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেন। পুলিশ শাহরিয়ারকে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখান থেকে শাহরিয়ারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে ইউনুছকে না পেয়ে তাঁর মা রেজিয়া বেগম খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হলে শনিবার রাতে ইউনুছের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন আছে।

তাসফিয়া ভবনের এক বাসিন্দা বলেন, শাহরিয়ার ও ইউনুছ প্রায়ই তত্ত্বাবধায়ক মোজাম্মেলের কাছে আসা-যাওয়া করতেন। বৃহস্পতিবার রাতেও তাঁরা আসেন। সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল ছিল। মোজাম্মেলের সঙ্গে ওই দুজনের কী সম্পর্ক ছিল, তিনি জানেন না।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ইউনুছের মা মামলা করেছেন। এর তদন্তভার ফেনী শহর ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সুদ্বীপ রায়কে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি রক্তমাখা চাপাতি জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, মোজাম্মেল ও তাঁর সহযোগীরা ওই দুজনকে কুপিয়ে মারা গেছে মনে করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিলেন। তবে কী কারণে এই ঘটনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় পুলিশ। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। মোজাম্মেলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন