দুই ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্বে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বরনডালি বিলের ৪০০ একর জমির বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৫০০ কৃষক।
বরনডালির স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার শেষ প্রান্তের ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের বরনডালি বিলে বরনডালি, মীরেরডাঙ্গা ও শাহাপুরের মানুষের ৪০০ একর জমি রয়েছে। প্রায় ৫০০ কৃষকের ওপর নির্ভরশীল। বিলটির অবস্থান কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেঁষে হওয়ায় আগে নদের পানি উপচে বিলে ঢুকত। এতে ওই বিলে কোনো ফসল হতো না। ২০০৩ সালে এই এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কপোতক্ষের তীর ঘেঁষে মাটির একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। ওই বিলে বছরের আট মাস মাছ চাষ হয়। এরপর সেখানে বোরো ধানের আবাদ হয়।
২০০৯ সাল থেকে এখানে আব্বাস আলী ও ঝিকরগাছা উপজেলার শাহানুর হোসেন দুজন ব্যবসায়ী একসঙ্গে মাছের ঘের করেন। তাঁরা বিলের পানি সেচ দিয়ে ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে দিলে কৃষকেরা তাঁদের মাছ চাষ করতে দেন। এদিকে তাঁদের এই ব্যবসার মেয়াদ এ বছর শেষ হয়ে যায়। এরপর আব্বাস আলী নিজেই ঘের করার উদ্যোগ নেন। আর বিলের পানি সেচ দেওয়ার জন্য শাহানুরের তাঁর নামে নেওয়া পাঁচটি বৈদ্যুতিক মিটার (যার সাহায্যে পাম্পের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে পানি সেচ দেওয়া হতো) তিনি গত ২৭ জানুয়ারি কাটিয়ে দেওয়ার জন্য যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জোনাল কার্যালয়ে আবেদন করেন। এই মিটারগুলো কেটে দিলে এলাকার কৃষকের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বরনডালি এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা ওই ব্যবসায়ীদের মাছ চাষ করতে দিই শুধু এই শর্তে যে আমাদের জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশন করে দেবে বলে।’
আব্বাস আলী বলেন, শাহানুরের নামে মিটার থাকা সত্ত্বেও পাঁচ বছর ধরে তিনি সেচ দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। এখন নতুন করে এলাকার কৃষকেরা তাঁকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মাছ চাষ করার অনুমতি দিচ্ছে বলে শাহানুর তাঁর নামে থাকা মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করেছেন।
শাহানুর বলেন, ‘আমার নামে মিটার বরাদ্দ। যদি বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করা হয় তার দায়দায়িত্ব আমার। সে কারণে আমি মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্নের আবেদন করেছি।’
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কেশবপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক বরকত উল্লাহ বলেন, ‘মিটার বিচ্ছিন্নের অবেদন পেয়েছি। আইনানুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে এলাকার মানুষের বাধা পেয়ে আমরা ফিরে এসেছি। তবে এলাকার মানুষের সেচের বিষয়টি আমরা ভাবব।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন