বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে, এর আগে ২০২০ সালের মে মাসেও দুবার ফোনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন রফিকুল আমীন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রিজন সেলের বাইরে যাওয়ার পর তাঁকে একটি মুঠোফোন কিনে দিয়েছিলেন ডেসটিনির একজন বিনিয়োগকারী। ওই মুঠোফোন নিয়ে প্রিজন সেলে প্রবেশের সময় দায়িত্বরত কারারক্ষীরা তাঁকে তল্লাশিও করেননি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) তৌহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যে অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। রফিকুল আমীনসহ দোষীদের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

যে মুঠোফোনে রফিকুল আমীন কথা বলেছেন, তা উদ্ধার করা গেছে কি না জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘না, সেটি পাইনি। হয়তো সরিয়ে ফেলেছে।’

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুলসহ ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়। দুই মামলায় মোট ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। রফিকুল আমীনের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা না দেওয়ায় আরেকটি মামলা রয়েছে। এ মামলায় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন তিনি।

অর্থ আত্মসাৎ এবং পাচারের অভিযোগে রফিকুলসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা প্রায় ৯ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অপর মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। মামলা দুটি এখন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ বিচারাধীন।

২০১২ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তারের পর থেকে রফিকুল আমীন একেক সময় একেক রোগের কথা বলে হাসপাতালের প্রিজন সেলে থেকেছেন। তিনি মূলত ঘুরেফিরে বিএসএমএমইউ ও বারডেম হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। বেশির ভাগ সময় ছিলেন বিএসএমএমইউতে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ এপ্রিল তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে আসেন। প্রিজন সেলে জুম অ্যাপে বৈঠকের খবর গণমাধ্যমে প্রচারের পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

প্রিজন সেলে রফিকুল আমীনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান কারারক্ষীসহ আটজনকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে চারজন ডেপুটি জেলারকে সতর্ক করার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ১৩ জন্য কারারক্ষীর বিরুদ্ধে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কারারক্ষীদের সবাই কিছুই না বলে নিজেদের দোষ অস্বীকার করেছেন এবং একই জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে, বিশ্বনাথ পোদ্দার নামে একজন ব্যক্তি নিয়মিত প্রিজন সেলে আসতেন। তাঁর পরিচয়ের বিষয়ে রফিকুল আমীন জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সেবক ছিলেন। ওষুধপথ্য ও বাজার করে দিতেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির কাছে রফিকুল আমীন স্বীকার করেছেন, তিনি কয়েক দফা ফোনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের একাংশের সঙ্গে ২০২০ সালের মে মাসে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর পর্বের আলোচনায় অংশ নেন। সেটা জুম বা ভিডিও ফোন কল ছিল না। তিনি সাধারণ ফোন ব্যবহার করেই তাঁদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কথা বলেন এবং দু-তিনজন বিনিয়োগকারীর কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন। সেখানে কতজন বিনিয়োগকারী ছিলেন তা তিনি জানেন না। তবে তাঁকে বৈঠকের আগেই জানানো হয়েছিল, বিনিয়োগকারীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক হতে পারে।

তদন্ত কমিটি এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে যেসব হাসপাতালে প্রিজন সেল আছে, সেসব প্রিজন সেলে করিডরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ মোট ১৯টি সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে কারারক্ষীদের মধ্যে যাঁরা এর আগে বিভাগীয় সাজা পেয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়া। পাঁচ বছরের কম সময় ধরে কারারক্ষীর দায়িত্ব পালন করছেন এমন কাউকে প্রিজন সেলে নিযুক্ত না করা এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চালু করে সেখানে রেখে অসুস্থ বন্দীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কারাবিধি ও আইন অনুযায়ী যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ তদন্ত কমিটি করেছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন