দক্ষিণাঞ্চলের দুইটি জেলায় গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার রাজবাড়ীতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত এরশাদ আলী মণ্ডল (২৮) নামে এক তরুণ মারা গেছেন।
আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
ফরিদপুর: সদর উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার একটি গমখেত থেকে সোলায়মান মোল্লা (১০) নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সোলায়মান পরমানন্দপুর গ্রামের কৃষক আফসার মোল্লার ছেলে ও পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথকি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
সোলায়মানের পারিবারিক সূত্রে জানায়, সোমবার বিকেলে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সোলায়মান। রাতে বাড়িতে না ফিরলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির পাশের গমখেতে তার লাশ দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই মাসুদ আল ফারুক রানা জানান, শিশুটির দুই কানের নিচে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সোমবার সাদিয়া (৭) নামের এক ছাত্রীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে লোহাইড় গ্রামের ফারুক শেখের মেয়ে ও স্থানীয় লোহাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সাদিয়া বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একই গ্রামে অবস্থিত নানা বাশার মাতুব্বরের বাড়িতে যায়। সন্ধ্যার আগে বাশার তাকে এক প্যাকেট চিপস কিনে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু সাদিয়া বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গ্রামের ইউপি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে একটি পুকুরপাড় থেকে তার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় সাদিয়ার কানের সোনার দুলটি পাওয়া যায়নি।
মুকসুদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বি এম এস লিয়াকত আলী বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, কানের দুই আনা ওজনের ওই সোনার দুলের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।
রাজবাড়ী: কালুখালীতে নিহত এরশাদের বাড়ি কালিকাপুর ইউনিয়নের গতমপুর গ্রামে। সে শারীরিকভাবে প্রতিবন্দ্বী ছিল। অভিযোগ আছে, গত রোববার প্রতিবেশী মুল্লুক প্রামাণিক তাঁকে কুপিয়ে জখম করেন।
কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিউর রহমান জানান, এরশাদ মুল্লুক প্রামাণিকের বিবাহিত মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। প্রায় মাস খানেক আগে এরশাদকে ডেকে উত্ত্যক্ত করা থেকে নিষেধ করা হয়। কিন্তু এরপর সে আরও বেশি উত্ত্যক্ত করতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে এরশাদ গতমপুর বউ বাজারের একটি দোকান থেকে চা খেয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় মুল্লুক প্রামাণিক ধারালো অস্ত্র (হাঁসুয়া) দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করেন। স্থানীয় লোকজন এরশাদকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার রাতে এরশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার সময় পথে মারা যায়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন