বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কদমতলীর স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় পরিবারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। স্কুলছাত্রীর বাবার সঙ্গে গত ২০ মার্চ কথা বলেছে প্রথম আলো। ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা নয়, ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গেছে, এটি জানানো হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ নেই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য উঠে আসেনি বলে তিনি মনে করেন। এত দিন পর এ নিয়ে তিনি আর কথা বলতে চান না।

কদমতলী থানা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের আওতাধীন। এই বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, পরিবার অসহযোগিতা করায় এবং এখন পর্যন্ত কোনো সূত্র না পাওয়ায় কদমতলীর স্কুলছাত্রীর হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটন করা যায়নি। পুলিশ কয়েকবার ওই বাসায় গেছে। কিন্তু পরিবার কোনো তথ্য দিতে চায় না, বিষয়টির তদন্ত হোক, সেটিও চায় না তারা।

মৃত্যুর কারণ জানা জরুরি

গত বছরের ১৪ জানুয়ারি হাতিরঝিলের জলাশয় থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। তবে ঘটনার চার মাস পর ময়নাতদন্তে বেরিয়ে আসে ওই তরুণকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর হত্যা মামলা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই পুলিশ ওই তরুণের পরিচয় নিশ্চিত হয়। জানা যায়, তাঁর নাম সাদমান রাফি। তিনি মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। করোনার মধ্যেই দেশে ফিরেছিলেন। তাঁর বাসা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।

তবে এক বছরের বেশি সময় পরও এ ঘটনার কোনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। মামলাটি এখন তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত সাদমানের মা মনোয়ারা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে বড় হয়েছে সৌদি আরবে। পরে মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিতে যায়। দেশে সাদমানের ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধু নেই। বাসা থেকে বেরিয়ে একদিন নিখোঁজ হয় সাদমান। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত চান তিনি।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে লাশ (সাদমান) দাফন করা হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর তোলা ছবি দেখে পরে পরিবার তাঁকে শনাক্ত করে। তদন্তে এখন পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি নেই। সাদমানের মৃত্যুর সম্ভাব্য সময় জানতে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

অপমৃত্যু মামলা নিষ্পত্তিতে ময়নাতদন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কারণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, মৃত্যু কীভাবে হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপমৃত্যুর ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে অনেক দেরি হয়। কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায়। এতে করে মামলার তদন্তে অনেক দেরি হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সন্দেহজনক মৃত্যুতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান। বারবার তাগাদা দিয়েও প্রতিবেদন মেলে না। এতে করে মামলাজটও তৈরি হয়।

পুলিশ বলছে, রাজধানীতে লাশের ময়নাতদন্ত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। এই তিন কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অধীনে ময়নাতদন্তের কাজটি হয়। তবে তিন কলেজেই ফরেনসিক বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিভাগে একজন অধ্যাপক, দুজন সহযোগী অধ্যাপক, তিনজন সহকারী অধ্যাপক, পাঁচজন প্রভাষকের প্রয়োজন। অথচ আছেন মাত্র তিনজন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগেও জনবলসংকট রয়েছে।

পুলিশ সূত্র বলছে, ময়নাতদন্তের জন্য গত চার মাসে শুধু ঢাকা মেডিকেলের মর্গেই ৪০০ লাশ পাঠানো হয়। অপমৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনেক দেরিতে আসে।

এ বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি হওয়ার মূল কারণ জনবলসংকট। এ ছাড়া একজন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে মামলার সাক্ষ্য দিতে হয়। এসব কারণেও অনেক সময় নষ্ট হয়। ফলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন