সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে এক গৃহবধূকে (৩৫) হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করা হয়। পাঁচজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূর স্বামী দেশের বাইরে থাকেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা দিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পরিচিত একজন রসমালাই নিয়ে গৃহবধূর বাড়িতে বেড়াতে যান। রসমালাই খাওয়ার পর সবাই অচেতন হয়ে পড়েন। গতকাল শুক্রবার সকালে বাড়ির কারও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। কেউ দরজা না খোলায় পরে বাড়ির পেছনে গিয়ে একটি দরজা খোলা পাওয়া যায়। বাড়িতে ঢুকে দেখা যায়, পরিবারের সবাই অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ, তাঁর তিন ছেলে ও দেবরকে ভর্তি করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে গিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আরিফ নামের পরিচিত এক ব্যক্তি রাতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন।
গৃহবধূ এর বেশি আর কিছু বলতে পারেননি। অসুস্থতার কারণে তাঁর কথা ছিল এলোমেলো। গৃহবধূর বড় ছেলে (১৪) বলে, রাতে রসমালাই খেয়ে তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর কী হয়েছে জানে না। দেবর (২১) বলেন, যিনি রসমালাই নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁকে ভাবি চেনেন। ভাবিও রসমালাই খেয়েছিলেন। রাতে ঘুমানোর পর আর কিছু বুঝতে পারেননি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণচেষ্টার কথা পরিবারের লোকজন বলছেন। ওই নারীর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ওই নারী এখনো স্পষ্ট করে কোনো কিছু বলতে পারছেন না।’
বিকেলে সদর হাসপাতালে গিয়ে দোয়ারাবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আল আমিন গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সবাইকে অচেতন করা হয়েছিল। গৃহবধূ এখনো ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। পুরোপুরি চেতনা ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন