default-image

ঢাকার ধামরাইয়ে শাখা ধলেশ্বরী, গাজীখালি ও বংশী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের চরবরদাইল এলাকায় শাখা ধলেশ্বরী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশের চরসুংঘোর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ড্রেজারের সাহায্যে বালু তুলে বিক্রি করছেন। 

নদীর পাশের বাসিন্দা টেপু ব্যাপারী বলেন, সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে বালু কিনে তিনি বাড়ি করেছেন। সিরাজুল ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু তুলে তাঁর জায়গা ভরাট করে দিয়েছেন। প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য তাঁকে দিতে হয়েছে পাঁচ টাকা।
সিরাজুল ইসলাম নিজের জমি থেকে বালু তুলছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, চরবরদাইল এলাকায় কোনোকালে নদী ছিল না, এখনো নেই। তবে চরবরদাইল গ্রামের লেজু মিয়াসহ গ্রামের অনেকে বলেন, ছোটকাল থেকেই তাঁরা নদীটি দেখে আসছেন। কালের আবর্তে নদীর আকার ছোট হলেও তা কোনো ব্যক্তির নয়। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলায় ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরপরও প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় রোয়াইল ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালাম সামসুদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিরাজুল ইসলাম নদী থেকে বালু বিক্রি করছেন। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ রেখে আবার আগের মতো বালু তুলে বিক্রি করেন তিনি।
অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে কুশুরা ইউনিয়নের কুশুরা বাজারের পাশে বংশী নদী থেকে। কুশুরা সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশে চারটি ড্রেজার বসানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার আলমগীর হোসেন, মতিউর রহমান ও হাবিবুর রহমান ড্রেজারের সাহায্যে মাটি তুলছেন। তাঁরা বলেন, আলমগীর ও মতিউর স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। কথা বলার জন্য গতকাল কুশুরা গিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোন নম্বর জোগাড় করতে না পারায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কুশুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বালু তোলায় কুশুরায় প্রস্তাবিত থানার জমি হুমকির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরার পর স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার পুড়িয়ে দিয়েছিল। ওই সময় কয়েক দিন বন্ধ রেখে তাঁরা আবার বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন।
এদিকে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের কাওয়ালিপাড়া এলাকায় গাজীখালি নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে প্রায় এক মাস ধরে। স্থানীয় মহসিন নামের এক ব্যক্তি বালু তুলছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে মহসিন বলেন, ‘অনেক জায়গায় নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করা হয়, তাই আমিও করছি। এতে নদীও গভীর হচ্ছে। আর আমিও কিছু পয়সা পাচ্ছি।’
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সকালে বন্ধ করে দিলে আবার বিকেলে চালু করে ফেলে। এ অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে পারা মুশকিল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধামরাই থানাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0