আইন করে হরতাল-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমান হিংসাত্মক ও ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বানও জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতিগুলোর ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে এসব আহ্বান জানানো হয়। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনের সামনে গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
এফবিসিসিআইয়ের আহ্বানে একই সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশের ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তাঁদের হাতে ছিল ছোট-বড় জাতীয় পতাকা। আরও ছিল ‘সংঘাত নয়, সমাধান চাই, প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নিন’; ‘আইন করে হরতাল-অবরোধ বন্ধ কর’; ‘দেশ বাঁচাও, অর্থনীতি বাঁচাও’; ‘সংঘাত নয়, শান্তি চাই’সহ স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডও দেখা গেছে।
মতিঝিলের অবস্থান কর্মসূচিতে দেশের সব ব্যবসায়ীর পক্ষে স্মারকলিপি পড়েন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, মীর নাসির হোসেন, আনিসুল হক, এ কে আজাদ, বর্তমান দুই সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী ও হেলাল উদ্দিন।
কর্মসূচিতে অংশ নেন মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি রোকিয়া আফজাল রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ ও সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জানান, চলমান টানা অবরোধ-হরতালে প্রতিদিন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ৯ হাজার ৫০০ কোটি, পোশাক খাতে ৩০ হাজার কোটি, উৎপাদনশীল খাতে ৪ হাজার কোটি, পর্যটন খাতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি, কৃষি ও পোলট্রি খাতে ৯ হাজার ৫১৮ কোটি, হিমায়িত খাদ্য খাতে ২৫০ কোটি, আবাসন খাতে ৭ হাজার ৭৫০ কোটি, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অবিলম্বে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার, দেশব্যাপী সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসা, হরতাল-অবরোধ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণের সুদ মওকুফ করার দাবি জানানো হয়। অবস্থান কর্মসূচি শেষে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
এফবিসিসিআই-ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তা পালন করেছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরাও। বিজিএমইএর কর্মসূচিতে কয়েক মিনিট থেকেই এফবিসিসিআইয়ের কর্মসূচির উদ্দেশে রওনা দেন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন নেতা। এ সময় আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামার কথা না। তার পরও আমরা নেমেছি। আমরা চাই না সহিংসতা হোক, মানুষ মারা যাক। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে সুন্দর দেশ গড়তে।’
রাষ্ট্রপতি ও দুই নেত্রীকে আজ চিঠি: চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায় এফবিসিসিআই। এ লক্ষ্যে সাক্ষাতের সময় চেয়ে তাঁদের কাছে আজ সোমবার চিঠি দেবে সংগঠনটি।
সূত্র জানায়, প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে গতকাল রোববারই এ তিনজনের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল চিঠিটি আর তৈরি করা যায়নি। আজ চূড়ান্ত করে তা পাঠানো হবে।
জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবগত করতে চাই। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী সে নিয়েও সাক্ষাতে আলোচনা করা হবে। আগামীকাল (আজ সোমবার) এ জন্য তাঁদের চিঠি দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন