গত ৫ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা ১২৬টি মামলায় ৩ হাজার ৭৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় নগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, সহসভাপতি আবু সুফিয়ানসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নগর কমিটির প্রায় সব নেতাকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই মামলায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীসহ জেলা কমিটির অনেক নেতাকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির নেতারা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ দাঙ্গা-হাঙ্গামা, পেট্রলবোমা ও ককটেল ফাটিয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগে গত ৫ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ৭৯টি মামলা করে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ১ হাজার ৯০৩ জন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭৩ জনকে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ৫ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত নাশকতাসংক্রান্ত ৪৭টি মামলা করেছে। আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৮৫২ জনকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫৮ জনকে। যাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয় গত ৫ জানুয়ারি। সেদিন বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে ২০-দলীয় জোটের সভা চলাকালে কাজীর দেউড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩০১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ভিন্নমতের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। জনগণের কাছে এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। দেশে নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসনও নেই। তাই খুন-গুম, নির্যাতন এবং গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জেলে ঢুকাচ্ছে।’
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রতিটি ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নেতা-কর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না। দেশটা যেন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, ‘আমরা ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সমাবেশ করার নামে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতি এখন সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। আমার এলাকায় পেট্রলবোমা ছুড়ে একজনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আমরা কিছু অপরাধী ধরেছি। যাদের মধ্যে ১০ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অপরাধীদের ধরছি।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এ কে এম হাফিজ আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা হাতেনাতে অনেক আসামি ধরেছি। ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আসামি ধরছি।’
পুলিশ সূত্র বলছে, গত ৫ জানুয়ারির পর বিভিন্ন নাশকতায় জড়িত হামলাকারীদের মধ্যে ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিরাও আছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের খুলশী থানার মাস্টারলেন এলাকা থেকে সাজু ও রিংকু নামের দুই যুবককে দুটি পেট্রলবোমাসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁরা পাহাড়তলী ঝাউতলা বস্তির বাসিন্দা। তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন