default-image

গাইবান্ধায় সেচ প্রকল্পের অধীন আলাই নদী পুনঃখনন এবং পানি নিষ্কাশনের পাইপ স্থাপনের কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সঠিকভাবে খাল খনন ও পাইপ স্থাপন না করেই এ কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাজের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (বিএডিসি) গাইবান্ধা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বছর গাইবান্ধা জেলায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আলাই নদী পুনঃখনন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য রিং পাইপ (আউট লেট) স্থাপনের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এর আওতায় শুকনো মৌসুমে নদী থেকে পানি সেচের জন্য সদর উপজেলার বোয়ালি রেলওয়ে সেতু থেকে বাদিয়াখালি পালপাড়া পর্যন্ত সাড়ে নয় কিলোমিটারে আলাই নদী পুনঃখননের কাজ করা হয়। এ ছাড়া আবাদি জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রতি কিলোমিটারে আটটি করে মোট ৭৬টি রিং পাইপ স্থাপন করা হয়। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বিএডিসি এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। ময়মনসিংহের রেজভী এন্টারপ্রাইজ ও গাইবান্ধার মেসার্স রাজ্জাক অ্যান্ড কোম্পানিসহ পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজের দায়িত্ব পায়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ৩১ মার্চ। ভরাট হয়ে যাওয়া নদী পাঁচ ফুট পর্যন্ত গভীর করে খনন করার কথা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যেনতেনভাবে কাজ করা হয়েছে। নদীর তলদেশে যেভাবে খননকাজ করার কথা, তা করা হয়নি।
সদর উপজেলার রিফাইতপুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘আলাই নদীর কাছেই আমার বাড়ি। নদীর তলদেশে কোনোমতে এক ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি কাটা হয়। মাটি কাটা শেষ হতে না হতেই পানি এসে যায়। এরপর আর খনন করতে দেখিনি।’
রিফাইতপুর গ্রামের বাসিন্দা কলেজছাত্র হাবিবুর রহমান বলেন, নদীটি ভরাট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় নদীটি খনন করলে আশপাশের কৃষকেরা শুকনো মৌসুমে জমিতে পানি সেচ দিতে পারতেন। কিন্তু সঠিকভাবে খননকাজ না হওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি থাকছে না। ফলে কৃষকেরা সেচের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে আবাদি জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য নিচে ঢালাই এবং উভয় মুখে ইট দিয়ে গাঁথুনি করে রিং পাইপ তৈরি করার কথা। কিন্তু ঢালাই ও ইটের গাঁথুনি ছাড়াই বেশির ভাগ রিং পাইপ স্থাপন করা হয়। ফলে পানি নিষ্কাশনের সময় আবাদি জমি নদীতে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
একই উপজেলার চুনিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, জমিতে পানি সেচ এবং জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকার এই প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু গত বন্যায় পানি নিষ্কাশনের সঙ্গে সঙ্গে রিং পাইপ স্থাপনের স্থানে আংশিক ভেঙে গেছে। একই গ্রামের ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, ‘রিং পাইপ সঠিকভাবে তৈরি করে স্থাপন না করায় আমার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার কৃষকদের উন্নয়নে এই প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু লুটপাটের কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রেজভী এন্টারপ্রাইজের মালিক বুলবুল আহমেদ বলেন, সহকারী প্রকৌশলী তদারকি করে শতভাগ কাজ বুঝে নেন। কোনো লুটপাট হয়নি। অপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজ্জাক অ্যান্ড কোম্পানির মালিক আবদুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে অনিয়ম করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিএডিসি গাইবান্ধা অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) নুরুল আলম দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারেরা এই কাজের টাকা আত্মসাৎ করেনি। তাঁরা ঠিকাদারদের দিয়ে দরপত্রের শর্তানুযায়ী নদী পুনঃখনন করে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘নদী পুনঃখনন ও রিং পাইপ তৈরির কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন