default-image

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ১৭ দিনের সন্তানকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন মা। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন। জিনের আসরের প্রভাবে তিনি শিশুটিকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন।

পুলিশ বলছে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও ওই নারী জিনের আসরের কথা বলেছেন। তবে পারিবারিক কলহের জের ধরে তিনি শিশুটিকে হত্যা করে থাকতে পারেন বলে তাঁর দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে।

স্বীকারোক্তি দেওয়া নারী হলেন শান্তা আক্তার (১৯)। তিনি গাবতলা গ্রামের সুজন খানের (৩০) স্ত্রী। তাঁদের নিহত সন্তানের নাম সোহানা আক্তার।

পুলিশ সুপার (এসপি) পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য-উপাত্ত আমরা পাচ্ছি তা হলো, শান্তা ও সুজনের আগেও বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের প্রত্যেকের আগের সংসারে একটি করে মেয়ে রয়েছে। শান্তা আগের বিয়ে গোপন করে সুজনকে বিয়ে করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহ ছিল। শান্তা আগের স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে অথবা এই ঘরে ছেলে না হওয়ায় সোহানাকে হত্যা করে থাকতে পারেন। আদালতে শান্তার দেওয়া জবানবন্দি ও সুজনের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগির আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
জবানবন্দিতে ওই নারী জানিয়েছেন, তাঁর ওপর জিনের আসর রয়েছে। এর প্রভাবে তিনি শিশুটিকে নিয়ে রাতে ঘরের বাইরে বাগানে চলে যান। একপর্যায়ে তিনি বাগানের পাশের পুকুরে শিশুটিকে ফেলে দেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক।
ঠাকুর দাস মণ্ডল, মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা, পরিদর্শক. মোরেলগঞ্জ থানা

থানা-পুলিশ জানায়, ১৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে মা-বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সোহানা নিখোঁজ হয়। পরিবার থেকে দাবি করা হয়, শিশুটি চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় সোহানার দাদা আলী হোসেন খান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ১৭ নভেম্বর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে সোহানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন দুপুরে পুলিশ সোহানার বাবা সুজন, চাচা রিপন ও ফুফা হাসিবকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সুজনকে প্রধান সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মোরেলগঞ্জ থানার পরিদর্শক ঠাকুর দাস মণ্ডল। তিনি বলেন, ২২ নভেম্বর তিনি সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার (রিমান্ড) আবেদন করেন। সুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৬ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের তৃতীয় দিন শুক্রবার সুজনের সামনে তাঁর স্ত্রী শান্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শান্তা সোহানাকে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. খোকন হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরিদর্শক ঠাকুর দাস মণ্ডল বলেন, জবানবন্দিতে ওই নারী জানিয়েছেন, তাঁর ওপর জিনের আসর রয়েছে। ঘটনার রাতেও তাঁর ওপর আসর হয়। এর প্রভাবে তিনি শিশুটিকে নিয়ে রাতে ঘরের বাইরে বাগানে চলে যান। একপর্যায়ে তিনি বাগানের পাশের পুকুরে শিশুটিকে ফেলে দেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক। কলহের জের ধরেই তিনি হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন