default-image

নবাব সলিমুল্লাহর নাতি পরিচয়দানকারী আলী হাসান আসকারীকে আবার দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এই আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান।

মিরপুর থানায় করা মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার আলী হাসান আসকারীকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসকারীর দুদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে আসকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তিনি নিজে শুনানি করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পরিদর্শক আবু সাঈদ মিয়া আদালতে এক প্রতিবেদন দিয়ে বলেন, আসামি আসকারী বিদেশে লোক নেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগী মানজুরুর রহমানের কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া প্রতারণার মামলায় সম্প্রতি প্রতারক চক্রের মূল হোতা আসকারী তাঁর চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন। মোহাম্মদপুর থানার মামলায় আসকারীকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। আসকারীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা এবং রাজধানীর মতিঝিল থানায় প্রতারণার মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, আসকারী নিজেকে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর নাতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দুবাইয়ে তাঁর সোনার কারখানা আছে বলে জানান। তাঁর বাবা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, থাকেন নিউইয়র্কে।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মালিকানা রয়েছে তাঁর। মন্ত্রী, সাংসদসহ সমাজে প্রতিষ্ঠিত লোকজনের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার করতেন তিনি। এরপর ফেসবুকে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে মাউন্ট এলিজাবেথে বিনা খরচে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সহস্রাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসকারী জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেকে সলিমুল্লাহর নাতি পরিচয় দিয়ে সেখানে আসা মন্ত্রী, সাংসদ, শিল্পপতি ও সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলে তাঁর ফেসবুকে আপলোড করতেন। ফেসবুকে নানাভাবে বিভিন্ন মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করতেন। পরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করতেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও চিকিৎসা সনদ দেওয়ার কথা বলে লাখখানেক করে টাকা নিতেন। এরপর তিনি গা ঢাকা দিতেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0