খুলনায় চারটি পেট্রলবোমাসহ ছাত্রশিবিরের পাঁচ কর্মী ও টাঙ্গাইলে পাঁচটি পেট্রলবোমাসহ ছাত্রদলের এক ‘নেতা’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-পুলিশ। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে পাঁচটি পেট্রলবোমাসহ একজনকে আটক করে পুলিশ। চট্টগ্রামে একজনকে ককটেল ফাটিয়ে পালানোর সময় ধরে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার একটি ছাত্রাবাস থেকে চারটি পেট্রলবোমাসহ ছাত্রশিবিরের পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার গভীর রাতে শহরের খানজাহান আলী সড়ক এলাকায় মাদ্রাসাটির একটি ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার শেখ মনিরুজ্জামান।
গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীরা হলেন ছাত্রশিবিরের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ, অর্থ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহিদ, সাথি মো. ইসমাইল হোসেন ও কর্মী আল-মামুন।
পুলিশের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই রাতে পুলিশ মাদ্রাসার ছাত্রাবাসটিতে অভিযান চালায়। এ সময় পুরোনো ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলার ২০২ নম্বর কক্ষ থেকে চারটি পেট্রলবোমাসহ ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাঁচটি পেট্রলবোমাসহ ছাত্রদেলর নেতা সুমন আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সখীপুর পৌরসভার জেলখানা মোড় এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে ২৫টি ইয়াবা বড়ি, দুই লিটার পেট্রলও জব্দ করা হয়।
তবে সুমন আহমেদের স্ত্রী তমা আক্তার দাবি করেন, ‘আমার স্বামীকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এগুলো বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়েছে।’ সুমন সখীপুর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে পাঁচটি পেট্রলবোমাসহ মো. সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, গতকাল রোববার ভোর চারটায় পূর্ব সানারপাড়া এলাকার আবদুল হান্নানের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় বাড়ির ভাড়াটে সেলিমের ফ্ল্যাট থেকে ওই পেট্রলবোমাসহ তাঁকে আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন জানান, আটক সেলিমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একজনকে গণপিটুনি: চট্টগ্রাম নগরের গোলপাহাড় মোড়ে ককটেল ফাটিয়ে পালানোর সময় একজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। একপর্যায়ে সে পালিয়েও যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মোটরসাইকেল আরোহী তিন যুবক তিনটি ককটেল ফাটিয়ে বাদশা মিয়া সড়ক দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরোহীরা রাস্তায় পড়ে যায়। দুজন পালিয়ে গেলেও একজন ধরা পড়ে। গণপিটুনির পর মোটরসাইকেল ও তার কাছে থাকা শিবিরের প্রচারপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন