default-image

নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দিতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রাসেল মৃধা (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে নাগরিয়াকান্দির ইউএমসি জুটমিলের সামনে একটি গলির মুখে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী।

নিহত রাসেল মৃধা শিবপুর উপজেলার আয়ুবপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামের মান্নান মৃধার ছেলে। গত বছর তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। তিনি নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়ার কুমিল্লা কলোনি এলাকায় বড় ভাইয়ের বাসায় থেকে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে নাগরিয়াকান্দি এলাকার একটি বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ানো শেষে বাসায় ফিরছিলেন রাসেল। গলির মুখে আসার পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, ওই যুবককে হাসপাতালে আনার ১০ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বুকে ও পাশে অন্তত তিন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত রাসেল মৃধার পরিবারের সদস্যরা বলেন, শিবপুরের আয়ুবপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামের প্রতিবেশী বেলায়েত হোসেন মৃধা ও তাঁর ছেলেদের সঙ্গে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে তাদের। এ নিয়ে চলমান মামলায় তিনবারই রাসেলদের পক্ষে রায় দেন আদালত। নরসিংদী শহরে প্রাইভেট পড়িয়ে রাসেল ওই মামলার সব ব্যয়ভার বহন করেছিলেন। এ নিয়ে রাসেলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বেশ কয়েকবার হত্যার হুমকিও দেয় প্রতিপক্ষ। তাঁরাই পরিকল্পিতভাবে রাসেলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী বলেন, ধারালো ছুরির আঘাতে যুবক রাসেল মৃধাকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর লাশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

মন্তব্য পড়ুন 0