বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের দুর্গম জঙ্গলে অবৈধভাবে দুটি ইটভাটা স্থাপন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বনের কাঠ পুড়িয়ে ভাটা দুটিতে ইট তৈরি করায় বনাঞ্চল উজাড়ের পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে স্থাপিত একটি ইটভাটায় কাজ করছেন শ্রমিকেরা। ভাটার বিভিন্ন স্থানে কাঠ মজুত করে রাখা হয়েছে। ইট পোড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ‘ড্রাম চিমনি’। ইট তৈরি হচ্ছে পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাটার কয়েকজন শ্রমিক জানান, কয়েক মাস আগে বনাঞ্চলের পাশে ইটভাটাটি গড়ে তোলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী গ্রামের আলী আহমদ ওরফে আলী কোম্পানি। গ্রামের কিছুসংখ্যক লোক বনাঞ্চল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে ভাটায় বিক্রি করছেন।
ইটভাটার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) আমান উল্লাহ জানান, এই ভাটার নাম নেই। ভাটার মালিক আলী আহমদ হলেও এটি চালাচ্ছেন উখিয়ার বালুখালী গ্রামের নুরুল হক। আট লাখ টাকায় তিনি এক মৌসুমের জন্য ভাটাটি ইজারা নিয়েছেন।
ব্যবস্থাপক স্বীকার করেন, এই ইটভাটার কোনো লাইসেন্স নেই।
অন্যদিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের আজুখাইয়া (পুলিশ ফাঁড়ির কাছে) জঙ্গলে স্থাপন করা হয়েছে আরেকটি ইটভাটা। ভাটার মালিক স্থানীয় লক্ষ্মীকান্ত বড়ুয়া, মো. ইসহাকসহ পাঁচ ব্যক্তি। ভাটার নাম ফাইভ স্টার ব্রিকস। এই ইটভাটারও কোনো লাইসেন্স নেই বলে জানান ভাটার ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য জানান, দুর্গম এলাকা হওয়ায় অবৈধ ইটভাটাগুলো কারও নজরে আসছে না।
নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকাটি পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের আওতাভুক্ত। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের জন্য কাউকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। অবৈধ ইটভাটার ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম জানান, ঘুমধুম জঙ্গলে অবৈধভাবে স্থাপিত ইটভাটা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন