উপহার দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাসখানেকের মধ্যে ৪০ জন নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল শনিবার সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে প্রতারকদের এ দেশীয় সহযোগীদের।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. কায়েস হোসেন ও তাঁর স্ত্রী শহিদা খাতুন এবং সুজন মাঝি। মো. কায়েস হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর মতিহারে, তাঁর স্ত্রী শহিদা রাজশাহীর চারঘাটের মেয়ে। সুজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের। কায়েস আগেও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁকে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাবাড়ী থেকে। আর শহিদাকে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সুজন মাঝিকে সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ রোববার সিআইডি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, নাইজেরীয়রা টাকা হাতিয়ে নিতে ভুক্তভোগীদের যে ব্যাংক হিসাব দিত, সেই ব্যাংক হিসাবগুলোর জোগান দিতেন গ্রেপ্তারকৃতরা।

সাইবার পুলিশ সেন্টারের এই কর্মকর্তা বলেন, নাইজেরীয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের সাধারণত কুয়েত বা আফগানিস্তানে থাকা সৈনিক হিসেবে পরিচয় দেন। তারপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব করেন বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে। প্রতারক যদি পুরুষ হন, তিনি এ প্রান্তে কোনো নারীর সঙ্গে ভাব জমান। নারী হলে বন্ধুত্ব করেন পুরুষের সঙ্গে। তারপর মিলিয়ন ডলার মূল্যের উপহার পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

এই উপহার হাতে পেতে ‌অল্প-স্বল্প খরচা মেটানোর কথা বলা হয়, সেটার জন্যই ব্যাংক হিসাব দরকার। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের কাছ থেকে এমন অর্ধশতাধিক চেক বই, ১৮৫টি স্বাক্ষর করা চেকের পাতা, চারটি মুঠোফোন ও একটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে নাইজেরীয় এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এদের।

এই কাজে ব্যাংক বা শুল্ক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ আছে কি না, জানতে চাইলে সিআইডি বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা অনেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা কারা, জানতে চাইলে সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, এ তালিকায় সাংসদ, গায়ক, ব্যাংক কর্মকর্তারা আছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ধাপে ধাপে এক কোটি টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। একজন দিয়েছেন ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। শুধু এই কাজ করে কায়েস মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা রোজগার করতেন।

সিআইডি গতকাল ভিআইপি নম্বর দেওয়ার কথা বলে যাঁরা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, তাঁরাও প্রতারক বলে জানান। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতারক চক্র ফোনের সুন্দর নম্বর দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফরিদপুরের মধুখালী থেকে এ ধরনের প্রতারণায় যুক্ত মিঠুন সরকার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

প্রসঙ্গ: মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁস
প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণে যুক্ত ব্যক্তিরা মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে যুক্ত থাকতে পারেন, সিআইডি এমন তথ্য দিলেও রোববার পর্যন্ত অধিদপ্তরের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি।

তবে এ প্রক্রিয়ায় যারা যারা জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন