শফিকুরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। তিনি ঢাকার চকবাজারের একটি মাদ্রাসা থেকে ১৯৮৩ সালে হেদায়া পাস করেন। তারপর ১৯৮৬ সালে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে ইউসুফ বিন নুরী মাদ্রাসায় ফতোয়া বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে তিনি আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবানদের পক্ষে যুদ্ধ করেন। ওই বছরের শেষের দিকে তিনি ফিরে আসেন।

শফিকুর হরকাতুল জিহাদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন জানিয়ে র‌্যাবের কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে পড়াশোনা করার সময় মুফতি হান্নানের সঙ্গে পরিচয় হয়। মুফতি হান্নানও ওই প্রতিষ্ঠানে পড়ছিলেন। আফগানিস্তান থেকে দেশে এসে হরকাতুল জিহাদ (হুজি-বি) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তা করেন। ১৯৯০ সালে দেশে হরকাতুল জিহাদ (হুজি-বি) সংগঠন প্রতিষ্ঠার সময় তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) প্রচার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনের আমির ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনের সুরা সদস্য ছিলেন।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। এ ঘটনায় জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জঙ্গিকে আসামি করা হয়। মামলার ১৩ বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মুফতি হান্নানসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ১৪ আসামির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৪ আসামি এখনো পলাতক।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন