নাশকতা ঘটাতে পেট্রলবোমা ও ককটেল সরবরাহের জন্য চট্টগ্রাম নগর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তিন ব্যক্তি।

পুলিশ ও আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছে, পেট্রলবোমাসহ গ্রেপ্তার হওয়া দুই দোকান কর্মচারী নাশকতা ঘটাতে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নবাব খানকে জড়িয়ে এবং ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া অটোরিকশাচালক নগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা ও যুবদল কর্মী রাসেলের নাম বলেছে জবানবন্দিতে।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সৈয়দ মাসফিকুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দেয় দুই দোকান কর্মচারী। এর আগের দিন একই আদালতে জবানবন্দি দেয় অটোরিকশাচালক।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী প্রথম আলোকে জানান, কোতোয়ালি থানার মামলায় ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া অটোরিকশাচালক মজিবুর রহমান স্বীকার করেছে, ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতা-কর্মী তাকে ককটেল সরবরাহ করেছে। পেট্রলবোমাসহ গ্রেপ্তার হওয়া দোকান কর্মচারী কবির হোসেন ও মো. সোহেল জবানবন্দিতে বিএনপির নেতা জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরের আলমাস সিনেমা হলের সামনে ১৮টি ককটেলসহ মজিবুর রহমান নামের অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতা আলী মর্তুজাসহ ছয়জনকে আসামি করে ওই দিন রাতে বিস্ফোরক আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করে পুলিশ। সে নগরের সিআরবি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে মজিবুর রহমান উল্লেখ করে, যুবদল কর্মী রাসেল তার পরিচিত। রাসেলের মাধ্যমেই ছাত্রদল নেতা আলী মর্তুজার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। আলী মর্তুজা তাকে চকবাজার ও বাকলিয়া এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতার বাসায় নিয়ে যান। রাসেল ও মর্তুজার সঙ্গে নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম বক্করের যোগাযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে আবুল হাশেম বক্কর ও আলী মর্তুজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চাকমা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মজিবুর রহমান ছাত্রদল নেতা আলী মর্তুজা ও যুবদল কর্মী রাসেলের নির্দেশে নগরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছে। জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নবাব খানকে জড়িয়ে গতকাল বিকেলে আদালতে জবানবন্দি দেয় কবির হোসেন (১৮) ও মো. সোহেল (১৮) নামের দুই দোকান কর্মচারী। গত ১৮ জানুয়ারি বাকলিয়ার ইছহাকের পুল এলাকা থেকে দুটি পেট্রলবোমা, একটি ককটেলসহ তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, পেট্রলবোমাসহ গ্রেপ্তার দুই আসামি বিএনপির নেতা নবাব খানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগে বাকলিয়া থানার আরেকটি নাশকতার মামলায় নবাব খানকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছিল গ্রেপ্তার আসামি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন