কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (ভিডিএস) নামের একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মকর্তারা এলাকার লোকজনের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। সংস্থাটি জমা করা টাকার বিপরীতে তিন গুণ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে এসব টাকা নিয়েছিল।
৮ ফেব্রুয়ারি সমিতির সদস্যরা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ষাইটধার এলাকায় অবস্থিত ভিডিএসের কার্যালয়ে এসে কর্মকর্তাদের উধাও হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। ওই দিন সমিতির সব সদস্যকে নতুন করে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ভিডিএস নিকলীতে ২০০৩ সালে কার্যক্রম শুরু করে। এর প্রধান কার্যালয় নেত্রকোনা সদর উপজেলার বলুয়া পাড়ায়। সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের লোকজন নিকলীর সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫০টি সমিতি গড়ে তোলেন। সমিতির সদস্য সংখ্যা এক হাজারের বেশি। সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে নিয়মিত সাপ্তাহিক সঞ্চয় আদায় করা হতো। ইতিমধ্যে সমিতির সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এক মাস ধরে এই সংস্থার লোকজন বেশি করে নতুন ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সমিতির সব সদস্যের কাছ থেকে সব ঋণ আদায় করে নেন ও তাঁদের টাকা জমাদানের পাস বইটিও কৌশলে নিয়ে নেন। পরে সদস্যদের ৮ ফেব্রুয়ারি কার্যালয়ে এসে ঋণ নিতে বলা হয়। কিন্তু কার্যালয়ের লোকজন ৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ সব আসবাব নিয়ে চলে যান।
প্রতারণার শিকার সদর ইউনিয়নের দরগাহাটি গ্রামের রানা মিয়া বলেন, ‘বেশি ঋণ পাওয়ার আশায় এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে সাত হাজার টাকা ওই সমিতির লোকজনকে দিয়েছিলাম। এখন বন্ধুর টাকা শোধ করব কেমনে।’ একই গ্রামের রওশন আরা জানান, ওই এনজিওটি তাঁদের উপজেলা থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘স্বামীর অজান্তে স্বর্ণের দুল বন্ধক রেখে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন স্বামী জানলে আমার কী উপায় হবে।’
পারভিন আক্তার বলেন, ‘৪ ফেব্রুয়ারি এনজিওর লোকজন এসে বলেন, আপনারা যাঁরা নতুন সদস্য হবেন, তাঁরা যত টাকা সঞ্চয় করবেন ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁদের তিন গুণ বেশি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। বেশি টাকা ঋণ পাওয়ার লোভে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কার্যালয়ে এসে দেখি তালা লাগানো। কোনো লোকজন নেই।’
গতকাল শনিবার নিকলীর ভিডিএস কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। কার্যালয়ের পেছনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের সঞ্চয়ের বইগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এদিকে সংস্থাটির যেসব লোক এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন, তাঁদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভিডিএসের প্রধান কার্যালয়ের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নিকলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঈনুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে সংস্থাটি নিকলী থেকে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। সংস্থাটিকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সংস্থাটির ওপর নজরদারি কম ছিল।
ভিডিএসের ঋণ প্রদানের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব আলম জানান, সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন