ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে গ্রেপ্তার-আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশের বিরুদ্ধে দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবরোধ-হরতালে জেলা শহরের কান্দিপাড়া, টিএরোড, কালীবাড়ি মোড়সহ বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আটটিই হয়েছে সদর থানায়। এসব মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৭৬৬ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ রয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১২ শতাধিক।
পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান জানান, এসব মামলায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ৪ হাজার ১০৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭৪৪ জন। তাঁদের মধ্যে ১১৪ জন বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মী।
তবে গণমাধ্যমকর্মীদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রায় ৫০০। পুলিশ প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে।
শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও কান্দিপাড়ার কাউছার মিয়ার ছেলে সিয়াম হোসেন ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। পরীক্ষার ফি, বেতন ও খরচ নিতে ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়িতে আসে। ওই রাতেই তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কাউছার মিয়াকে না পেয়ে তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
একই রাতে পাওয়ার হাউস রোডের বাসিন্দা আনিছুর রহমানের ছেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র রায়হান রহমান গ্রেপ্তার হন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক প্রতিবেশী মুনির হোসেনের বাড়ি চিনিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে ডেকে এনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। আগামী মাসে সিয়াম ও রায়হানের প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে।
একই রাতে শিমরাইলকান্দি এলাকায় গ্রেপ্তার হন আরও দুজন। সদর থানা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা সালাউদ্দিনকে না পেয়ে তাঁর বড় ভাই আশা এনজিওর ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন ও বেড়াতে আসা তাঁদের ভগ্নিপতি সৌদিপ্রবাসী আবু জাহেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জাহেরের বাড়ি নবীনগর উপজেলায়। পাঁচ মাসের ছুটিতে দেশে আসা জাহেরের ছুটি শেষ হবে দেড় মাস পর। একই রাতে গ্রেপ্তার হওয়া এই চারজনকেই ৫ জানুয়ারি জেলা শহরে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী কামরুল হাসানের করা একটি মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ ফেব্রুয়ারি রাত নয়টায় রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামে মো. জামাল (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে ছয়টি পেট্রলবোমাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। জামাল দুই বছর আগে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলেন।
জামালের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সেলিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও আওয়ামী লীগের নেতা সুবীর কুমার রায়, সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সফিউল্লাহ জানান, জামাল খারাপ বা বোমাবাজ, এ কথা এলাকার কেউ বলতে পারবে না। তিনি বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্তও নন।
জানতে চাইলে সদর থানার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তাপস রঞ্জন ঘোষ প্রথম আলোকে জানান, পুলিশের কাছে থাকা বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তার পরও যাঁরা জড়িত নন, বিষয়টি প্রমাণিত হলে অভিযোগপত্র থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন