default-image

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নুরুল ইসলাম (১৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নুরুলের বাবা ফকির আলমগীর ওই মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

আসামিরা হলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাহাপাড়া এলাকার মো. রানা, মনির হোসেন, সৌরভ, মাসুম, শাহরিয়ার ওরফে রক্তিম ও থানা রোড এলাকার রাসেল। এর মধ্যে মামলায় সৌরভ ব্যতীত পাঁচ আসামির বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। সৌরভের বয়স লেখা হয়েছে ১৯ বছর।

এই মামলায় ছয় থেকে সাতজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বেড়া বেলা আড়াইটার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে নুরুলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ বলেছে, নুরুলের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে।

গতকাল বেলা তিনটার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজ দিঘির পাড়ে নুরুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী ফকির আলমগীর পাখি ধরে বিভিন্ন এলাকায় তা বিক্রি করেন। আর তাঁর ছেলে নিহত নূরুল ইসলাম শহরে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করত। গতকাল বেলা আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে পরিচিত কিছু ছেলে নুরুলকে কুপিয়ে রাজ দিঘিতে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে পানি থেকে তুলে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় ফকির আলমগীর উল্লেখ করেন, তিনি জানতে পেরেছেন, নূরুল তার বন্ধু সাজন, হোসেন, মোফাজ্জল ও অপু মিলে সাহাপাড়া বালুর মাঠে আড্ডা দিচ্ছিল। তখন সেখান দিয়ে আসামিরা যাচ্ছিল। এ সময় আসামি মনির “কিরে তোর খবর কি” বলে নুরুলের বন্ধু সাজনকে সম্বোধন করেন। তখন সাজন বলে, “ভালো-ই, তোদের খবর কি? ” এতে মনির ক্ষিপ্ত হয়ে সাজনকে বলে “আমাকে তুই করে বললি কেন? ” এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারপিট হয়। এ ছাড়া তাদের মধ্যে সিগারেট খাওয়া নিয়েও বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে ওই ঘটনার কিছু সময় পর আসামিরা চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নুরুলদের ধাওয়া করে।

ঘটনাস্থলের পাশের একাধিক ব্যক্তি জানান, ছয় থেকে সাতজন কিশোর বয়সের ছেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে নূরুল ও সাজনকে ধাওয়া করেছিল। এ সময়ে সাজন পাশের একটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করতে পারলেও নূরুল দিঘিতে পড়ে যায়। পরে অস্ত্রধারী ওই কিশোরেরা তাকে পানি থেকে তুলে কোপায়।

নিহতের পিতা ফকির আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, যারা তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে তারাও কিশোর বয়সের। তারপরও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এজাজ শফী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পরই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে গেছে। আমরাও ধারণা করছি এটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কাজ। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’


কিশোর গ্যাং আতঙ্ক
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দিঘির পাড়, ট্যাংকিরপাড়া, জোড়পুর ও ছায়াবিথীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবকও আতঙ্কে আছেন তাদের ছেলেরা ভুল করে না ওই গ্রুপের সঙ্গে মিশে যায়। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অনেক দিন ধরেই ট্যাংকিরপাড় ও দিঘির পাড় এলাকায় সন্ধ্যার পর নানা চুরি ও ছিনতাই করে আসছে। কারখানার বেতনের সময় শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের কেউই থানায় অভিযোগ করেনি।

দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, তাদের এলাকার বড় সমস্যা বাড়িতে চুরি ও সন্ধ্যার পর ছিনতাই। এটি হরহামেশায় ঘটছে। অনেক সময় পুলিশকে মৌখিক ভাবে জানানোও হয়েছে। কিন্তু সেই অপরাধ বন্ধ হয়নি। তাঁর ভাষ্য, সেই গ্রুপের সদস্যরাই নুরুলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছে চাপাতিসহ নানা রকমের ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে। ছিনতাই কাজেও তারা এগুলো ব্যবহার করে।

ছায়াবীথি এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজশিক্ষক বলেন, তাঁর ধারণা এ রকম আরও কয়েকটি কিশোর গ্যাং গাজীপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে। তারা নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। জেলা প্রশাসনের গত আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন