default-image

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১–এ মামলার বাদী দুদকের পরিচালক জুলফিকার আলী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নূর হোসেনের সম্পত্তির মধ্যে ৩ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৮০৫ টাকার সম্পত্তি অসাধু উপায়ে অর্জন করা।

আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা।

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনকে আজ বুধবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় দুদক পরিচালক জুলফিকার আলী আদালতকে জানিয়েছেন, আসামি নূর হোসেনের ৪ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮৬১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ৩ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৮০৫ টাকার সম্পত্তি অসাধু উপায়ে অর্জন করা।

মামলার বাদী পরিচালক জুলফিকার আলী আদালতকে আরও বলেন, নূর হোসেন দুদকের কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের হিসাব জমা দেন।

পরে তাঁর সম্পদ যাচাইয়ের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ নানা দাপ্তরিক তথ্য চেয়ে দুদকের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়। নূর হোসেনের সম্পদ যাচাই করে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের ঘোষপাড়া মৌজায় ১৩ শতক জমি ৫০ লাখ টাকায় কেনেন বলে দাবি করেন নূর হোসেন। তবে এই সম্পত্তির মূল্য ৭০ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জের বৈহাকৈর এলাকায় কয়েক শতক জমি কেনেন কিন্তু সেই সম্পদের হিসাব তিনি সম্পদ বিবরণীতে দেখাননি। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে ২০ শতক জমি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেলেও তিনি তা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেননি।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজায় ৫২ শতক জমির মালিক নূর হোসেন। অথচ সেই সম্পদের হিসাব তিনি জমা দেননি।

দুদক কর্মকর্তা জুলফিকার আলী আদালতকে আরও বলেন, নূর হোসেন যে সম্পদ বিবরণী দুদকের কাছে জমা দিয়েছিলেন, সেখান থেকে ৯৭ লাখ ৫২ হাজার ৬৮০ টাকার জমির তথ্য তিনি লুকিয়েছেন। এ ছাড়া নূর হোসেন ১ কোটি ১১ লাখ ১৪ হাজার ১৬৬ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকের কাছে জমা না দিয়ে গোপন করেছেন।

সম্পদ বিবরণীতে নূর হোসেন তাঁর তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করলেও তার দাম তিনি সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেননি। ৬৫ লাখ টাকার তথ্য তিনি গোপন করেছেন। নূর হোসেন ইফাদ মোটরস লিমিটেডের কাছ থেকে কিস্তিতে ১৬টি বাস কেনেন। বাস কেনা বাবদ তিনি ১ কোটি ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৮ টাকা পরিশোধ করেন। এই টাকা তিনি সম্পদ বিবরণীতে দেখাননি। নুর হোসেন মোট ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথিপত্র বলছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১ আগস্ট সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি তদন্ত করে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৪ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আর আদালত গত বছরের ৮ মার্চ নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই মামলায় অভিযোগপত্রে ২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। অস্ত্র মামলায় ৬ জানুয়ারি নূর হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত।

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় নূর হোসেনকে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। নূর হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ আটটি মামলা ছিল। এর মধ্যে চারটি মামলার রায় হয়েছে।

মন্তব্য করুন